ফেনীর দাগনভূঞায় বাসচাপায় স্কুলছাত্রী নিহতের ঘটনায় আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। রোববার বিকাল সোয়া চারটা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অবরোধ চলাকালে বিক্ষোভ ও বাসটিতে ভাঙচুর চালানো হয়। আন্দোলনকারীরা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সিলোনীয়া বাজার এলাকায় ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান। অবরোধের কারণে ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এর আগে বিকাল ৪টার দিকে দাগনভূঞা উপজেলার সিলোনীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্লাস ছুটির পর শিক্ষার্থীরা সড়ক পারাপারের সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা শরিয়তপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় বাসটি উল্টে গিয়ে ৮জন ছাত্রী চাপা পড়ে। শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী পাশের একটি করাতকলে থাকা গাছবোঝাই ট্রাক দিয়ে বাসটিকে সোজা করে ছাত্রীদের উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনাস্থলেই সিলোনীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার (১১) নিহত হন। সে উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের মো. হানিফের মেয়ে। গুরতর আহত অবস্থায় তিনজনকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী রাইসাকে (১২) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অন্য দুইজন ফেনী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এ ছাড়া বাসের ধাক্কায় আহত অন্য চারজনকে ফেনী ও দাগনভূঞায় প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
?ঘটনার পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালান। সিলোনীয়া হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন জানান, বারবার দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। মহিপাল হাইওয়ে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
