চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরের আলফা অ্যাঙ্করেজ এলাকায় নোঙর করে রাখা একটি জাহাজে ধাক্কা দিয়েছে পণ্যবাহী আরেকটি জাহাজ। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ‘এমভি আনাসা’ ও ‘এমভি জাহাব জাহান’র মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর জাহাজ দু’টি নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে আলাদা স্থানে নোঙর করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। জাহাজে পানি প্রবেশ বা পরিবেশ দূষণেরও কোনো ঘটনা ঘটেনি।
জানা যায়, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ‘এমভি আনাসা’ ৩৫ হাজার ৩৫০ টন স্ল্যাগ নিয়ে গত ১২ই আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের পতাকাবাহী ‘এমভি জাহাব জাহান’ পণ্য খালাস শেষে আলফা অ্যাঙ্করেজে নোঙর করে ছিল।
জাহাজটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান কেএসআরএম গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এসআর শিপিংয়ের মালিকানাধীন। জানা গেছে, স্থানীয় নেভিগেশন ও পাইলটেজ সহায়তা নিয়ে চলাচলের সময় প্রবল স্রোতের কারণে আনাসা নোঙর করে থাকা জাহাব জাহানের সামনের অংশে স্পর্শ করে। সংঘর্ষের পর বন্দর কর্তৃপক্ষের টাগবোট ‘কাণ্ডারি-৮’ ও ‘বিএলভি লুসাই’ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়। চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ও মুখপাত্র সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, সংঘর্ষে জাহাব জাহানের সামনের অংশে সামান্য আঘাত লেগেছে। তবে এতে কোনো হতাহত হয়নি, জাহাজে পানি প্রবেশ করেনি এবং পরিবেশ দূষণের ঘটনাও ঘটেনি। তিনি জানান, দুই জাহাজে থাকা মোট ২১ জন ক্রু নিরাপদে আছেন। দুর্ঘটনার পর পরই জাহাজ দু’টি আলাদা করে নিরাপদ স্থানে নোঙর করা হয়।
বর্তমানে বন্দরের নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। দুই জাহাজের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণে কাজ চলছে। তদন্ত ও পরিদর্শন শেষে সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। প্রসঙ্গত, শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় আরেকটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় ৩৩ হাজার টন ডিজেলবাহী তেলবাহী ট্যাংকার ‘এমটি সি স্পাইক’র সঙ্গে নোঙর করে থাকা বাল্ক ক্যারিয়ার ‘এমভি সানশাইন’র সংঘর্ষ হয়।
এতে ট্যাংকারটির ইঞ্জিন রুমে ফাটল দেখা দিলেও কার্গো ট্যাংকে পানি প্রবেশ বা তেল নিঃসরণের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর আগে গত ৩রা আগস্ট বন্দরে প্রবেশের সময় কর্ণফুলী মোহনার কাছে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আটকে যায় মাল্টার পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ‘এমভি সিএনসি ইউরেনাস’। স্টিয়ারিং বিকল হয়ে জাহাজটি একটি বয়ার সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পরে মোহনা সংলগ্ন প্রতিরক্ষা দেয়ালে আটকে যায়। পরে বন্দরে প্রবেশের সময় স্টিয়ারিং গিয়ারে ত্রুটির বিষয়টি গোপন করার অভিযোগে গত ১১ই আগস্ট জাহাজটির মাস্টার ও শিপিং এজেন্টকে এক কোটি টাকা জরিমানা করা হয়।
