মহেশখালী উপকূলে রাত হলেই আতঙ্ক

মহেশখালী উপকূলে রাত হলেই আতঙ্ক

ফন্ট সাইজ:

দিনের আলোয় স্বাভাবিক, সন্ধ্যা নামলেই বদলে যায় মহেশখালীর উপকূলের চিত্র। রাত হলেই আতঙ্ক নেমে আসে সমুদ্রঘেঁষা মৎস্যঘের, চিংড়ি প্রকল্প, চরাঞ্চল ও নির্জন এলাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, মহেশখালীর ডাকাত ‘কবির বাহিনী’র দাপটে দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

হত্যা, অপহরণ, অস্ত্র, ডাকাতি ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বাহিনীটির বিরুদ্ধে। মহেশখালী ছাড়িয়ে পেকুয়া, মাতামুহুরী ও কুতুবদিয়া উপকূল পর্যন্ত তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত বলে দাবি স্থানীয়দের। বাহিনীটির প্রধান হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত মহেশখালীর কালামারছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিলা ১ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আব্দুল মোনাফের ছেলে কবির হোছাইন ওরফে মৌলভী কবির। তার সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে কাজ করছেন একই এলাকার নুরুল আলমের ছেলে মো. ওমর ফারুক ওরফে কানা ফারুক। তাদের গ্রুপের পরিচিত অন্য সদস্যরা হলেন কবিরের আপন ভাই সাকের উল্লাহ, হুমায়ুন কবির ও দরগাহ ঘোনা এলাকার বশির আহমদের ছেলে আরিফ। তাদের বাইরে রয়েছে আরও বড় নেটওয়ার্ক।

জানা যায়, মহেশখালী, মাতারবাড়ী, পেকুয়া, মাতামুহুরী ও কুতুবদিয়ার সমুদ্রঘেঁষা বিভিন্ন মৎস্যপ্রকল্প ও চিংড়িঘের থেকে নিয়মিত মাসিক চাঁদা আদায় করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হুমকি, হামলা কিংবা অপহরণের ভয় দেখানো হয়। স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন ঘের, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে প্রতি মাসে অর্ধকোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পুলিশের পিসিপিআর পর্যালোচনায় কবির হোছাইনের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, অস্ত্র ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৮টি মামলার তথ্য রয়েছে। এর বাইরে সিআর মামলাসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রয়েছে কয়েক ডজন মামলা। ফারুক, সাকের, হুমায়ুন, বশির, শাহজানসহ সবার বিরুদ্ধে ডাকাতি, অস্ত্র ও হত্যাসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। এরপরও তাদের প্রকাশ্যে চলাফেরা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় মৎস্যচাষিদের ভাষ্য, রাত হলেই আতঙ্ক, সন্ধ্যার পর নির্জন ঘের ও চরাঞ্চলে ভয় বাড়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মৎস্যচাষি বলেন, ‘রাতে ঘেরে থাকলে নানা ধরনের ভয় কাজ করে। তাই অনেক কিছু দেখেও চুপ থাকতে হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার ঘাটতিতে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তারা চাঁদাবাজির অর্থের উৎস, সহযোগীদের নেটওয়ার্ক ও অস্ত্রের উৎস তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে কবির হোছাইন ওরফে মৌলভী কবির, মো. ওমর ফারুক ওরফে কানা ফারুকসহ অন্যদের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তারা ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি। মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুস সুলতান বলেন, ‘ওয়ারেন্ট থাকলে গ্রেপ্তার করা হবে। কক্সবাজারের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মহেশখালী সার্কেল) অভিজিত দাস বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারে আমরা সব সময় তৎপর।