কক্সবাজারের তারকা হোটেল সী-গালকে প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হোটেল পরিচয় দেয়া ম্যানেজার মীর কামরুল হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে, এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানার এসআই শুভ্র রুদ্র বাদী হয়ে ওই ম্যানেজারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে পর্যটককে হুমকির ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। একইসঙ্গে হুমকি দেয়ার অভিযোগে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ।
সূত্র জানায়, গত ৯ই আগস্ট পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ রাসেল উদ্দিন। তিনি হোটেল সী-গালের ৭১৫ ও ৭১৭ নম্বর কক্ষে ওঠেন। রাসেলের অভিযোগ, রাতে পরিবারের সদস্যদের জন্য খাবার খেতে হোটেলটির নিজস্ব রেস্তরাঁয় যান। সেখানে তিনি দেশি মুরগির মাংসের অর্ডার দেন। রেস্তরাঁর কর্মচারীরাও তাকে দেশি মুরগি দেয়ার কথা নিশ্চিত করেন। কিন্তু খাবার পরিবেশনের পর স্বাদ নিয়ে সন্দেহ হলে বিষয়টি রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষকে জানান রাসেল। তার অভিযোগ, দেশি মুরগির কথা বলে তাদের সোনালি মুরগির মাংস পরিবেশন করা হয়েছে।
রাসেলের দাবি, বিষয়টি নিয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করলে তারা সোনালি মুরগি পরিবেশনের বিষয়টি স্বীকার করেন। এমনকি তাদের হোটেলে ‘দেশি মুরগি’ হিসেবে মূলত সোনালি মুরগিই পরিবেশন করা হয় বলেও জানানো হয়। ঘটনার পর রাসেল কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোনে বিষয়টি জানান। তবে তাৎক্ষণিক প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। উল্টো হোটেল সী-গালের রেস্তরাঁ ম্যানেজার মীর কামরুল হাসান তাকে ফোন করেন। রাসেলের অভিযোগ, ওই ফোনে রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে তাকে হুমকি দেয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় অভিযোগ সেলে অভিযোগ করেন তিনি।
অপরদিকে, জাতীয় সেলের অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার সময় কামরুল হাসান সাংবাদিকদের রাজনৈতিক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমাদের (হোটেলের) এমডির সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্পর্ক রয়েছে, তারেক রহমানেরও সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের হোটেলটা তারেক রহমানের হোটেল নামে সবাই জানে, আপনিও হয়তো জানেন। ওই কথোপকথনের অডিও প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অডিও প্রকাশের পর বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নজরে আসে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
