রাণীনগরে সরকারি দামে মিলছে না সার

রাণীনগরে সরকারি দামে মিলছে না সার

ফন্ট সাইজ:

নওগাঁর রাণীনগরে সরকার নির্ধারিত দামে সার মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ডিলাররা সার উত্তোলন করলেও অনেকের ঘরে সার নেই। ফলে বরাদ্দের সার কোথায় যাচ্ছে এবং কেন কৃষক সরকারি দামে সার পাচ্ছেন না- এমন প্রশ্নে স্থানীয় কৃষি বিভাগের গাফিলতিকেই কৃষকরা দায়ী করছেন। প্রান্তিক কৃষকদের অভিযোগ, সার বিতরণ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগে বাজারে দাম বাড়ছে। সিন্ডিকেটের কারসাজিতেই সারের দাম ওঠানামা করছে। তবে উপজেলা প্রশাসন বাজার নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বলে জানা গেছে। সার পরিস্থিতি জানতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাকিমা খাতুনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। নওগাঁ কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনজুর রহমান বলেন, রাণীনগরে সারের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রাণীনগরে ১৯ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। উপজেলায় বিসিআইসি’র ১১ জন ও বিএডিসি’র ১৯ জন ডিলার রয়েছেন। জুন, জুলাই ও আগস্টে উভয় ধরনের ডিলার বরাদ্দ পেয়েছেন। বিসিআইসি ডিলারদের জন্য বিশেষ বরাদ্দও দেয়া হয়েছে। কৃষকদের প্রশ্ন, জুন ও জুলাইয়ের বরাদ্দের সার গেল কোথায়?
গত বুধবার আবাদপুকুর বাজার থেকে পাঁচ বস্তা সার কেনা এক কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মেমোতে ৫ হাজার ৭৫০ টাকা লেখা হলেও তার কাছ থেকে নেয়া হয়েছে ৬ হাজার ৪০০ টাকা।

অভিযান হওয়ার পরও বেশি দাম নেয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। করজগ্রামের কৃষক ওয়ারিসুল, শহিদুল রহিমসহ কয়েকজন জানান, টিএসপি ১ হাজার ৬৮০ থেকে ১ হাজার ৮০০, ঝুরা পটাশ ১ হাজার ১২০ এবং ডিএপি ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খানপুকুর বাজারের মেসার্স সোনার বাংলা ট্রেডার্সের মালিক সবুজ হোসেন বলেন, চায়না ডিএপি ১ হাজার ৪৪০, দেশি ডিএপি ১ হাজার ৩৮০, পটাশ ১ হাজার ১৩০ ও তিউনিশিয়ার টিএসপি ১ হাজার ৯০০ টাকায় কিনতে হয়। কাশিমপুরের এক খুচরা ব্যবসায়ী জানান, ডিলারদের কাছ থেকে দেশি ডিএপি ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ এবং চায়না ডিএপি ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৪৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।

আবাদপুকুরের ফকির ট্রেডার্সের মালিক শহিদুল ইসলাম ফটিক বলেন, সারের সংকট নেই; বাইরে থেকে কেনায় বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি ডিএপি ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রির কথা স্বীকার করেন। উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নয়ন খান লুলু বলেন, কৃষককে ন্যায্যমূল্যে সার দিতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে ছাড় দেয়া হবে না। রাণীনগর বিএডিসি সার ডিলার সমিতির সভাপতি রেজাউল ইসলাম বলেন, বেশি দামে বিক্রির সুযোগ নেই, সবাইকে সরকারি মূল্যে বিক্রি করতে বলা হয়েছে। বিসিআইসি সার ডিলার সমিতির সভাপতি আব্দুস ছাত্তার শাহ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।