মহেশপুরে অবৈধ হাট বসিয়ে চাঁদাবাজি

মহেশপুরে অবৈধ হাট বসিয়ে চাঁদাবাজি

ফন্ট সাইজ:

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গৌরীনাথপুরে ‘ড্রাগন হাট’ বসিয়ে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাটে আসা কৃষকদের কাছ থেকে কেজিতে ২ টাকা এবং বেপারীদের কাছ থেকে ৩ টাকা করে চাঁদা নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিমণে ‘ধলতা’র নামে অতিরিক্ত ৫ কেজি ড্রাগন ফল নেয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ঈসমাইল হোসেন, যুবদল নেতা সোহাগ সরকার, ফারুক হোসেন এবং জামায়াত নেতা মসিউর রহমানসহ কয়েকজন এই টাকা আদায়ের সঙ্গে জড়িত। জানা যায়, গত ৩ বছর ধরে গৌরিনাথপুর সরকার নির্ধারিত হাটের পাশেই অবৈধভাবে ক্ষমতার বলে ড্রাগন ফলের হাট বসিয়েছে চক্রটি। তাদের সঙ্গে যোগসাজশে এই টাকার ভাগ নেয় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা জামায়াত বিএনপি’র নেতারা।

গৌরিনাথপুর সাধারণ হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান লেন্টু অভিযোগ করেন, গৌরিনাথপুর হাট সরকারিভাবে ইজারা দিলেও ওই ড্রাগন হাটে ইজারা তুলতে দেয় না চাঁদাবাজ চক্রটি। এ নিয়ে একাধিকার উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগের কাছে অভিযোগ দিয়ে এবং জেলার মাসিক আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অভিযোগ করলেও কোনো সুরাহা হয়নি।

আব্দুস সামাদ নামের এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, প্রতিদিন ওই হাট থেকে অন্তত ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা চাঁদাবাজি হচ্ছে। এর সঙ্গে ‘ধলতা’ হিসেবে ৫ কেজি ফল অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে। কিন্তুহাটের কোনো সরকারি অনুমোদন বা জেলা প্রশাসনের অনুমতি নেই।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া যদি হাট বসানো হয়ে থাকে, তাহলে প্রকাশ্যে কারা টাকা আদায় করছে? আর বৈধ অনুমোদন থাকলে সেই অনুমোদনের ভিত্তি কী? তাদের বলেন, প্রশাসনের উচিত দ্রুত হাটটির বৈধতা যাচাই করা এবং কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আদায় করা টাকা ও অতিরিক্ত ৫ কেজি ফল নেয়ার বিষয়টি তদন্ত করা। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত যুবদল নেতা সোহাগ সরকার বলেন, আমরা হাটে কোনো খাজনা আদায় করছি না। ব্যবসায়ী ও কৃষকদের কাছ থেকে কমিশন নিচ্ছি। এ ব্যাপারে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, গৌরিনাথপুর ড্রাগন হাটটি আমার জানা মতে সম্পূর্ণ অবৈধ। হাট বন্ধ করতে বললেও তারা বন্ধ করে না। যারা এই হাট চালাচ্ছে তারা উপজেলা বা জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে হাটের কোনো অনুমতি নেয়নি। জেলা প্রশাসক স্যারকে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেছি। হাটটি পেরিফেরিভুক্ত করতে এবং টাকা তোলা বন্ধ করতে দ্রুতই ব্যবস্থা নেয়া হবে।