৫৩ বছর ধরে সংবাদপত্র বিক্রি করছেন তারা মিয়া

৫৩ বছর ধরে সংবাদপত্র বিক্রি করছেন তারা মিয়া

ফন্ট সাইজ:

৫৩ বছর ধরে সংবাদপত্র বিক্রি করে আসছেন ময়মনসিংহের তারা মিয়া (৬৫)। তিনি যখন পত্রিকা বিক্রি শুরু করেন তখন একটি দৈনিক পত্রিকার মূল্য ছিল ৪ আনা। এখন ১০ টাকা করে বিক্রি করি। তিনি দুঃখ করে বলেন, ৪ আনা করে পত্রিকা বিক্রি করেও ভালো আয় হতো। এখন প্রতিটি দৈনিক পত্রিকা ১০ টাকা করে বিক্রি করি। তবু সংসার চলে না। বর্তমানে প্রতিদিন ৭শ’ থেকে ১ হাজার টাকার পত্রিকা বিক্রি হয়। এতে ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা আয় হয়। নিত্যপণ্যের বাজারমূল্য বেশি থাকায় অতি কষ্টে সংসার চালাতে হয়। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পেশা ছাড়ারও কোনো উপায় নেই। এই পেশায় এসে এখন আমি নিঃস্ব। নিজের কোনো বাড়িঘর নেই।

আশ্রায়ণ প্রকল্পে একটি সরকারি ঘর পেয়েছি। বর্তমানে ৪৯ হাজার টাকা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে শুধু বেঁচে আছি। এই ঋণ কীভাবে করবো জানি না। ষাটোর্ধ্ব বয়স তারা মিয়া মানবজমিনকে এভাবেই বর্ণনা দিচ্ছিলেন। প্রতিদিন ঝড়, ?বৃষ্টি, রোদ ও শীতকে উপেক্ষা করে ময়মনসিংহ স্টেশন গেট তাজমহলে মোড়ে একটি ছাতার নিচে বসে পত্রিকা বিক্রি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার আগের কথা, তখন বাবার চাকরির সুবাদে জামালপুর থাকতাম। জামালপুর থেকে প্রতিদিন ট্রেনে ভোরে ময়মনসিংহ স্টেশনে চলে আসতাম। সেখানে পত্রিকা এজেন্ট থেকে পত্রিকা কিনে নিয়ে ট্রেনে গৌরীপুর রেলস্টেশনে চলে যেতাম। সারাদিন ঘুরে ঘুরে সংবাদপত্র বিক্রি করে বিকালে ট্রেনে আবার ময়মনসিংহ হয়ে জামালপুর বাসায় চলে যেতাম। ১১ সদস্যের পবিবারে বাবার সামান্য আয় দিয়ে সংসার চলতো না। অভাব-অনটন লেগেই থাকতো। বাধ্য হয়ে পত্রিকা বিক্রি শুরু করি।

অদ্যবধি বিক্রি করে যাচ্ছি। বর্তমানে ডায়াবেটিস আর উচ্চ রক্তচাপে ভুগছি। স্মৃতি শক্তি কমে গেছে, কানে কম শুনি। অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে গেলে অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাও সম্ভব হবে না। এতগুলো ভাইবোনের সংসারের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজে বিয়ে করার সাহস পাইনি। এখন সংবাদপত্রই আমার সংসার হয়ে গেছে। বিছানায় পড়ে গেলে সেবা করার মানুষটাও নেই। আমার কাছে সংবাদপত্র বিক্রিটা গুরুত্বপূর্ণ সেবা বলে মনে করি। সংবাদপত্রের মালিকরা যেমন প্রতিদিন সংবাদপত্র প্রকাশ না করে থাকতে পারেন না।

আমার অবস্থা তাই। বাসাবাড়িতে যারা পত্রিকা বিক্রি করে তারাও অনেক কষ্ট করে। সেই অনুযায়ী তাদেরকে মূল্যায়ন করা হয় না। দৈনিক মানবজমিন একটি ভালো মানের পত্রিকা। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাহসী সংবাদ প্রকাশের জন্য সুনাম রয়েছে। দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী একজন আপসহীন প্রকৃত সাংবাদিক ও সম্পাদক। আমি মনে করি সত্য ও সাহসী অনুসন্ধানী সংবাদ পড়তে পাঠকদের মানবজমিন নিয়মিত পড়া উচিত।