জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জরুরি রেসপন্স টিম গঠনের সুপারিশ সিপিডির

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জরুরি রেসপন্স টিম গঠনের সুপারিশ সিপিডির

ফন্ট সাইজ:

দেশে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে একটি ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম’ গঠনের পরামর্শ দিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
রোববার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ ‘পোশাক খাতে শিল্প কার্বন নিঃসরণ হ্রাস: কীভাবে একে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়?’ শীর্ষক সিপিডির সংলাপে এই সুপারিশ করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সমাধানের দিকে এগোনোর মতো সময় হাতে নেই। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে জ্বালানি খাতের সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে।
রোববার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ ‘পোশাক খাতে শিল্প কার্বন নিঃসরণ হ্রাস: কীভাবে একে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়?’ শীর্ষক সিপিডির সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বর্তমানে দেশে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট চলছে। প্রতিদিন শিল্প উৎপাদন, কৃষি উৎপাদন ও আবাসিক খাতে গ্যাসের সংকট দেখা দিচ্ছে। এর বড় কারণ দেশের অধিকাংশ জ্বালানি অবকাঠামো গ্যাসনির্ভর। এর পাশাপাশি ডিজেলের ওপরও ব্যাপক নির্ভরতা রয়েছে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে বিপুল পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় কম দামে গ্যাস সরবরাহ করা হওয়ায় শিল্প-কারখানাগুলোও গ্যাসনির্ভর হয়ে পড়ে। পোশাক কারখানার বয়লার, সার উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাসের ব্যবহার বেড়েছে।
‘কিন্তু এখন সেই পরিস্থিতি বদলে গেছে। গ্যাসের মজুত শেষের দিকে। নতুন গ্যাস অনুসন্ধানের কাজও প্রত্যাশিত গতিতে শুরু হয়নি। ফলে সবাই বিকল্প হিসেবে দ্রুত এলএনজির দিকে যাচ্ছে। কিন্তু এলএনজি বড় কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়, যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, এখনই বিকল্প জ্বালানিনির্ভর শিল্প ও অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। বিদ্যুতের চাহিদার একটি অংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে পূরণ করা, গ্যাসচালিত বয়লারের বিকল্প খোঁজা এবং পরিবহনে ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
কৃষি খাতেও ডিজেলের পরিবর্তে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। বলেন, সোলারভিত্তিক সেচ ব্যবস্থায় যেতে হবে। এসব সমাধানের কথা বেশ কিছুদিন ধরেই বলা হচ্ছে এবং বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সিপিডির এই গবেষণা পরিচালক বলেন, ‘এখন একদিকে ফায়ার ফাইটিংয়ের সময়। প্রতিদিন অপেক্ষা করার বা ধীরে ধীরে সমস্যাগুলো সমাধান হবে এমন পরিস্থিতি আর নেই।’
তিনি বলেন, সরকারের এখনই জ্বালানি খাতের জন্য একটি জরুরি রেসপন্স টিম গঠন করা দরকার। এই টিম জরুরি ভিত্তিতে সমস্যাগুলোর সমাধান বাস্তবায়নে কাজ করবে। স্বাভাবিক প্রকিউরমেন্ট প্রক্রিয়ায় টেন্ডারসহ বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে অনেক সময় লাগে। তাই নিয়ম মেনে কীভাবে এসব প্রক্রিয়ার সময় কমিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন করা যায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
পোশাক খাতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রসঙ্গে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর কাছে বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোর কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এসব ব্র্যান্ডেরও কার্বন নিঃসরণ কমানোর নিজস্ব লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারেরও কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, শিল্প খাতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগ পোশাক খাত থেকেই শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশের পোশাক খাত অতীতে বড় বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে এবং বর্তমান জ্বালানি সংকটের মধ্যেও নতুন সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা এই খাতের রয়েছে।
সংলাপে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউঅ্যাবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, বিজিএমইএর সহসভাপতি ব্যারিস্টার বিদ্যা অমৃত খান, বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।