ডারউইনের বাতাসে ইতিহাসের ডাক

ডারউইনের বাতাসে ইতিহাসের ডাক

ফন্ট সাইজ:

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস হার এড়াতে প্রয়োজন ৬৭ রান। অন্যদিকে এই ম্যাচ জিততে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছয় উইকেট! দু’টি প্রশ্ন নিয়ে আজ ডারউইনের সকালের সূর্য উঠবে। অজিরা কি পারবে বাংলাদেশের লিড টপকে বড় লক্ষ্য দিতে! নাকি বাংলাদেশের সামনে আসবে নতুন ইতিহাস লেখার সুযোগ? হ্যাঁ, ডারউইনের বাতাসে আজ ইতিহাসের ডাক টাইগারদের জন্য। লিড পার হওয়ার আগে ছয়টি উইকেট তুলে নিতে যদিও না পারে, দ্রুত অজিদের গুটিয়ে দিতে পারলে অল্প লক্ষ্যে জয় নাজমুল হোসেন শান্তর জন্য কঠিন হবে না। এই টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে জয়ের পথ তৈরি করে রেখেছে বাংলাদেশ।

আজ সকালে টাইগার বোলাররা কারিশমা দেখাতে পারলেই ‘নয়া ইতিহাস’। গতকাল নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংসে চার উইকেটে ১৬১ রানে আটকে রাখে অজিদের। প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে অলআউট হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ফলে বাংলাদেশের লিড ছিল ২২৮ রানের। তৃতীয় দিনে ছয় উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে খেলতে নামে বাংলাদেশ। মিরাজ ১৫৪ বলে ৬৫ রান করেন। লেজের বোলাররাও তাকে দারুণ সঙ্গ দেন। এরপর লিড তাড়া করতে নামলে বোলিংয়ে হাসান দুই উইকেট নিয়ে শুরুতেই আঘাত হানেন। ওয়েদারল্ড শূন্য এবং হেড ১৭ রান করে আউট হন। লাবুশেন ৩১ রান করে তাইজুলের বলে বোল্ড হন। তবে গ্রিন ৪৩ এবং ক্যারি ১৯ রানে অপরাজিত আছেন।

এর আগে তৃতীয় দিনের সকালে ছয় উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ। দিনের চতুর্থ ওভারে হাসান ১৪ রান করে হ্যাজেলউডের বলে এলবিডব্লিউ হন। তিনি ৯২ বল খেলে ১৬৩ মিনিট ক্রিজে অবস্থান করেন। মিরাজের সঙ্গে তার জুটি থামে ১৭০ বলে ৪৬ রানে। এরপর তাইজুল ২৩ বলে ১৭ রান যোগ করেন। হ্যাজেলউডের বলে ছক্কা মেরে ওই ওভারেই তিনি বিদায় নেন। নবম উইকেটে মিরাজ ও তাসকিন ৪৬ রানের জুটি গড়েন। তাসকিন এক ঘণ্টা ৪২ মিনিট ব্যাটিং করে ১৪ রানে নট আউট থাকেন। অস্ট্রেলিয়া মোট পাঁচটি ক্যাচ মিস করে। কামিন্সের একই ওভারে স্মিথ ফেলেন তাসকিনের ক্যাচ এবং হেড ছাড়েন মিরাজের ক্যাচ। লাঞ্চের আগে গ্রিনকে ছক্কা মেরে মিরাজ দশম টেস্ট ফিফটি করেন। লাঞ্চের পর মিরাজ ১৫৪ বলে ৬৫ রানে হ্যাজেলউডের শিকার হন।

ইবাদত লায়নকে ছক্কা হাঁকিয়ে হ্যাজেলউডের ষষ্ঠ শিকার হন। বাংলাদেশ ১৩৮ ওভারে ৪২৬ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস গুটিয়ে যায়। ২২৮ রানের লিড নিয়ে বোলিংয়ে নেমেই সাফল্য পায় বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে হাসানের তৃতীয় বলে শট খেলতে গিয়ে স্টাম্পে টেনে আনেন ওয়েদারল্ড। ডারউইনের ঘরের ছেলে তিন বল খেলে শূন্য রানে আউট হন। হাসান তার দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন হেডকে। ১৭ রান করা হেড কাট করতে গিয়ে বোল্ড হন। এরপর লাবুশেন ও স্মিথ জুটি গড়ার চেষ্টা চালান। ৫৯ বলে ৩১ রান করা লাবুশেনকে বোল্ড করেন বাহাতি স্পিনার তাইজুল। লাবুশেন দু’টি চার মারেন। স্মিথের সঙ্গে গ্রিনের জুটিও তৈরি হচ্ছিল।

তবে মিরাজ এসে রানের গতি থামান। স্মিথকে আউট করে দলকে এনে দেন বড় সাফল্য। আউট হওয়ার আগে স্মিথ ৪৪ রানে রিটার্ন ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। হাসান ১১ ওভারে ৩৩ রানে দুই উইকেট নেন। তাইজুল নয় ওভারে ২৮ রানে এক উইকেট পান। মিরাজ ১৩ ওভারে ২০ রানে এক উইকেট দখল করেন। দিনের শেষ সেশনে গ্রিন ও ক্যারি ১৬ ওভার অবিচ্ছিন্নভাবে ব্যাট করেন। তৃতীয় দিন শেষে অস্ট্রেলিয়া ৫৩ ওভারে চার উইকেটে ১৬১ রান তোলে। গ্রিন ৮৬ বলে ৪৩ রানে নট আউট আছেন। তাসকিনের একটি বল গ্রিনের ইনসাইড এজ হয়ে লেগে লাগলেও বেল পড়েনি। অন্যপ্রান্তে ক্যারি ৫০ বলে ১৯ রান করে ক্রিজে রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া এখনো ৬৭ রানে পিছিয়ে রয়েছে। জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার আর ছয়টি উইকেট। প্রশ্ন থাকছে ইতিহাসের ডাকে সাড়া দিতে পারবে কি বাংলাদেশ!