সাফের প্রস্তুতির জন্যই আসিয়ান কাপ খেলতে চান ডুলি

সাফের প্রস্তুতির জন্যই আসিয়ান কাপ খেলতে চান ডুলি

ফন্ট সাইজ:

ভারত নাম প্রত্যাহার করায় তাদের জায়গায় আসিয়ান কাপে বাংলাদেশকে বিবেচনায় রেখেছে ফিফা। ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এরই মধ্যে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কাছে সেপ্টেম্বর উইন্ডোর পরিকল্পনা এবং আসিয়ানে সুযোগ পেলে খেলতে আগ্রহী কিনা, জানতে চেয়েছে। হঠাৎ তৈরি হওয়া এই সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে শুক্রবার বিকালে অনলাইনে এক জরুরি সভায় বসে বাফুফের জাতীয় দল কমিটি। সভায় সিদ্ধান্ত হয় টুর্নামেন্টে অংশ নেয়ার।

হঠাৎ তৈরি হওয়া এই সম্ভাবনাকে ভালোভাবেই কাজে লাগাতে চান বাংলাদেশ দলের হেড কোচ থমাস ডুলি। ঘরের মাঠে আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি যুতসই করতেই আসিয়ান কাপ খেলতে চান জাতীয় দলের এই হেড কোচ। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার সুযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ কোচ টমাস ডুলি। তার মতে, আসিয়ান কাপে ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো দলের বিপক্ষে খেলতে পারলে সেটি সাফের প্রস্তুতির জন্য ভালো হবে। ফিফা আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের খেলা অবশ্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

ভারত সরে দাঁড়ানোয় বাংলাদেশ খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে ফিফার ওপর। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে সেই টুর্নামেন্টে চারটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। তবে লিখিত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছুই নিশ্চিত বলতে চান না ডুলি। গতকাল জাতীয় দল কমিটির সঙ্গে বৈঠকের পর ডুলি বলেন, ‘আমার মনে হয় এটি ভালো প্রস্তুতি হবে। তবে সমর্থকদের সমর্থনে ঘরের মাঠে খেলতে পারাটা হতো আরও ভালো প্রস্তুতি। এমনকি আসিয়ান কাপে খেললেও যেখানেই যাই না কেন বাংলাদেশি সমর্থকদের পাওয়া যাবে, যা দুর্দান্ত। তবে আমরা ঘরের মাঠে যে ম্যাচগুলো খেলতাম, তার চেয়ে আসিয়ান কাপের ম্যাচগুলোতে জয় পাওয়া বেশি কঠিন হবে। ঘরের মাঠে খেললে কঠিন ম্যাচগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা সম্ভব হয়।’ আসিয়ান কাপে খেলতে হলে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হতে পারে ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া। ডুলি মনে করছেন, এই দলগুলোর বিপক্ষে খেলা থেকেই নিজেদের দুর্বলতা বোঝার সুযোগ পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘ওরা আমাদের প্রতিবেশী দেশের দল এবং আমাদের চেয়ে শক্তিতে এগিয়ে। তারা খুবই শক্তিশালী দল, যাদের বিপক্ষে খেললে আমরা নিজেদের ভুলগুলো শনাক্ত করতে পারবো এবং শিখতে পারবো। সেগুলো হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ এবং একটি তাৎপর্যপূর্ণ টুর্নামেন্ট। আমরা এর জন্য লড়াই করবো এবং এটি হলে খুব ভালো হবে। আশা করি এটি বাস্তবায়ন হবে।’ বাংলাদেশের জন্য সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বও তুলে ধরেছেন ডুলি। ২৩ বছর ধরে দক্ষিণ এশিয়ার এই টুর্নামেন্ট জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এবার তাই প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চান না তিনি। তিনি বলেন, ‘সবাই জানে সাফ একটি কঠিন টুর্নামেন্ট এবং আমরা দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে এটি জিততে পারিনি। এই টুর্নামেন্টের জন্য সবকিছু একদম নিখুঁত হতে হবে।

আত্মবিশ্বাস বাড়াতে জয়ী হওয়া সম্ভব এমন কিছু ম্যাচ খেলতে পারলে আমি দারুণ খুশি হতাম। তবে তা সম্ভব না হলে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দলের বিপক্ষে ম্যাচগুলোতে আমাদের সর্বস্ব উজাড় করে দিতে হবে। তাদের হারানোর সম্ভাবনা অবশ্যই আছে, তা না হলে আমরা খেলছি কেন?’ তবে আসিয়ান কাপে খেলার সুযোগ না মিললে বিকল্প পরিকল্পনাও ভাবছেন ডুলি। কিরগিজস্তান আমন্ত্রণ জানিয়েছে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার। এ ছাড়া ঘরের মাঠেও ম্যাচ আয়োজন করার কথাও ভাবছে বাফুফে।