আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর সৃষ্ট শূন্যতা পূরণে ইরানের আইন অনুযায়ী একটি উচ্চপর্যায়ের ‘অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ’ গঠন করা হয়েছে। এই পরিষদে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন দেশটির প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য আলিরেজা আরাফি। বিশেষজ্ঞ পরিষদ পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন না করা পর্যন্ত এই পরিষদই দেশটির রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি পরিচালনা করবে। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
এতে বলা হয়, ইরানের সংবিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতিতে তিন সদস্যের একটি অস্থায়ী কাউন্সিল গঠিত হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই কাউন্সিলের সদস্যরা হলেন- ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচারবিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন এবং আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি। তাকে গার্ডিয়ান কাউন্সিলের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
৬৭ বছর বয়সী আরাফিকে এই কাউন্সিলে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরানের শক্তিশালী সালিশি সংস্থা এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিল। আরাফি খামেনির অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত এবং বর্তমানে তিনি দেশটির মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে, ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি) এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে সংস্থাটির দ্বিতীয় প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন। তবে আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোতে একটি নাম বেশ জোরালোভাবে উঠে আসছে। তার নাম আহমদ ওয়াহিদি। বর্তমান ডেপুটি চিফের দায়িত্বে আছে। যাকে দুই মাস আগে খামেনি নিজে এই পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তাকেই পরবর্তী আইআরজিসি প্রধান হিসেবে সবচেয়ে যোগ্য মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অস্থায়ী কাউন্সিলে আরাফির অন্তর্ভুক্তি কট্টরপন্থীদের অবস্থানকে আরও শক্ত করবে। তবে পর্দার আড়ালে আইআরজিসি এবং জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার আগে এই অস্থায়ী পরিষদের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকে।
