অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের অন্যতম ভরসা জশ হ্যাজেলউড টেস্ট ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ক্যারিয়ারের ১৪তম পাঁচ উইকেট শিকারের মাধ্যমে এই অনন্য গৌরব অর্জন করেন তিনি। এর মধ্যদিয়ে অস্ট্রেলিয়ার নবম বোলার হিসেবে ৩০০ উইকেটের ক্লাবে নাম লেখান হ্যাজেলউড।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এই বিশেষ ক্লাবে এখন সতীর্থ হিসেবে তার সঙ্গে রয়েছেন নাথান লায়ন, প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ক। টেস্ট ইতিহাসে এটিই একমাত্র বোলিং আক্রমণ, যেখানে প্রত্যেকেই ৩০০ বা তার বেশি উইকেটের মালিক এবং একসঙ্গে খেলেছেন। ৩০০ বা তার বেশি উইকেট শিকার করা অস্ট্রেলিয়ার ৯ বোলারের মধ্যে গ্লেন ম্যাকগ্রা (২১.৬৪), প্যাট কামিন্স (২২.২১) এবং ডেনিস লিলি (২৩.৯২)-এর পর কেবল হ্যাজেলউডেরই ২৪.০২ গড়ে সেরা বোলিং গড় রয়েছে।
মাইলফলক ছোঁয়ার পর কায়ো স্পোর্টসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ৩৫ বছর বয়সী হ্যাজেলউড বলেন, ‘খেলা চলাকালীন এ ধরনের মাইলফলক নিয়ে খুব বেশি ভাবা হয় না। ক্যারিয়ারের শেষেই সম্ভবত এসব বিষয় পেছনের দিকে ফিরে দেখা হয়। তবে অন্য নামগুলোর দিকে তাকালে এবং যাদের মধ্যে তিনজনের সঙ্গেই আমি একসঙ্গে খেলছি, বিষয়টি সত্যিই দারুণ।’
চোটের কারণে গত ১২ মাসে কোনো টেস্ট না খেলা এই ডানহাতি পেসার এ ম্যাচের আগে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক থেকে ৫ উইকেট দূরে ছিলেন। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে যখন অন্য অজি বোলাররা বাংলাদেশের প্রতিরোধ ভাঙতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, তখন নিজের জাত চেনান এই অভিজ্ঞ পেসার। ডারউইনের ভ্যাপসা গরম এবং কঠিন উইকেটে মুমিনুল হক (৪৯), নাজমুল হোসেন শান্ত (৮৪), মেহেদী হাসান মিরাজদের (৬৫) মতো অভিজ্ঞ ব্যাটারদের ফিরিয়ে ক্যারিয়ারের চতুর্থবারের মতো ইনিংসে ৬ উইকেট তুলে নেন হ্যাজেলউড।
প্রথম ইনিংস শেষে টাইগার ব্যাটারদের লড়াইয়ের প্রশংসা করে হ্যাজেলউড বলেন, ‘তারা বেশ কঠিন লড়াই করেছে। এই উইকেটে বল করা বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। আমরা রান উৎসব হতে দেইনি এবং নিজেদের সেরাটা দিয়ে আটকে রেখেছি। বাংলাদেশ দল দারুণ প্রতিরোধ গড়েছিল, যে কারণে উইকেট পাওয়াটা বেশ কঠিন ছিল। সব মিলিয়ে এটি একটি ভালো প্রচেষ্টা ছিল।’
