ফরিদপুর-১ আসনে ত্রিমুখী লড়াই

ফন্ট সাইজ:

ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা এবং মধুখালী) আসনের ৩ প্রার্থীর মধ্যে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এ আসনে অধিকাংশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে বিএনপি’র সঙ্গে। এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় পাল্টে যাচ্ছে এ আসনের ভোট। মুখোমুখি হয়েছেন বিএনপি এবং জামায়াতের প্রার্থী। শেষ বেলায় এসে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী লড়াইয়ে যুক্ত হওয়ায় ভোটাররা ৩ ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি। দলের একনিষ্ঠ কর্মী হওয়ায় বিভিন্ন সময় প্রতিপক্ষের মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন তিনি। তার প্রতিপক্ষ রয়েছে নিজ দলের মধ্যেও। দল থেকে মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্য অংশের সঙ্গে তার বিরোধ চলে আসছে। এই অংশের নেতৃত্বদানকারী বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুসহ তিন নেতাকে ৬ই ফেব্রুয়ারি বহিষ্কার করা হয়েছে। বিজয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। কর্মী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী প্রফেসর ডক্টর ইলিয়াস মোল্লা। ২৪ এর জুলাই বিপ্লবের পর তিনি দলীয় মনোনয়ন নিয়ে এলাকায় এসেছেন। ফাঁকা মাঠে নির্বিঘ্নে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘুরে নিজেকে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছেন। বিজয়ের ব্যাপারে তিনিও আশাবাদী। স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাশার খান একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছেন। রাজনৈতিক মেরূকরণের ফলে অনেক ভোট পাওয়ার আশাবাদী তিনি। ইতিমধ্যে তিনি বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়েছেন। অর্থশালী এই প্রার্থীর ফুটবল মার্কা ভোটারদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি সমর্থকদের কিছু ভোট তার পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বিজয়ের ব্যাপারে তিনিও যথেষ্ট আশাবাদী। নির্বাচনে আলোচনায় থাকা আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থীর নাম আরিফুর রহমান দোলন। তিনি বোয়ালমারী, মধুখালী এবং আলফাডাঙ্গা এলাকায় ব্যাপকভাবে পরিচিত। বিত্তশালী এই প্রার্থী ঢাকা টাইমসের সম্পাদক। একজন জুলাইযোদ্ধার হাইকোর্টে রিটের পরিপ্রেক্ষিতে তার নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। ফলে তার ভক্তরা তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ তিনি ৮ই ফেব্রুয়ারি বিএনপি’র প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানিয়েছেন। এ আসনে মোট ৯ প্রার্থীর মধ্যে অন্যরা হচ্ছেন- হাসিবুর রহমান, ডাক্তার গোলাম কবির, সুলতান আহমদ, মৃণ¥য় কান্তি দাস ও আব্দুর রহমান জিকো। এ আসনে মোট ভোটের সংখ্যা ৫ লাখ ১০ হাজার ৫৫৬। এবং হিজড়া ভোটার একজন। তিন উপজেলায় মোট ভোট কেন্দ্র ১৯৭টি এবং ভোট কক্ষ ১০০৬।