তাৎক্ষণিক কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি না ঘটলে, শনিবার সকালে শুরু হওয়া ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলি-আমেরিকান যৌথ আগ্রাসন মধ্যপ্রাচ্য ও তার বাইরেও এক ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি করতে পারে। ইতিমধ্যেই সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান যেমন ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, তেমনি তারা উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালিয়েছে, যেমনটি তারা এই বিপর্যয়ের পূর্বমুহূর্তে হুমকি দিয়েছিল। অনলাইন ডনে ‘নিউ ওয়্যার’ শীর্ষক সম্পাদকীয়তে এসব কথা বলা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ইরানের শাসকদের দৃষ্টিতে এটি তৃতীয়বারের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। প্রথমবার ২০১৮ সালে তিনি জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জিসিপিওএ) থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেন। দ্বিতীয়বার গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধে আমেরিকা ইসরাইলের সঙ্গে যোগ দেয়। বৃহস্পতিবার জেনেভায় আলোচনার পর মনে হয়েছিল পরিস্থিতি সমাধানের দিকে এগোতে পারে, বিশেষত পারমাণবিক ইস্যুতে। ওই সময় ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শান্তি আমাদের নাগালের মধ্যেই। কিন্তু স্পষ্টতই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অন্য পরিকল্পনা ছিল।
মি. ট্রাম্প নিজেকে শান্তির মানুষ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, তিনি আটটি যুদ্ধ থামিয়েছেন এবং গত বছর পাকিস্তান ও ভারতের সশস্ত্র সংঘর্ষে হস্তক্ষেপ করে কোটি কোটি প্রাণ বাঁচিয়েছেন। যদিও এসব দাবির সত্যতা নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে, সাম্প্রতিক পদক্ষেপ তার সেই আত্ম-চিত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অর্থাৎ, ইরানের ক্ষেত্রে তিনি যুদ্ধপ্রবণ নেতা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান নাকি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করতে প্রস্তুত ছিল যে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, যদিও তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আলোচনা আলোচনার বাইরে ছিল। তদুপরি, যুক্তরাষ্ট্র বারবার অবস্থান বদলেছে- কখনো ইরানের পারমাণবিক নীতি, কখনো অভ্যন্তরীণ বিরোধ দমনের নীতি, আবার কখনো আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের বিষয় নিয়ে সমালোচনা করেছে। এতে বোঝা যায়, আলোচনাগুলো সময়ক্ষেপণের কৌশল ছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জোট শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তরিক ছিল না। এখন তারা সেই যুদ্ধই পেয়েছে, যা তারা দীর্ঘদিন ধরে চাইছিল এবং এর শেষ কোথায়, তা অনুমান করা কঠিন।
ইরানে শাসন পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে মি. ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করা হবে। কিন্তু শাসন পরিবর্তন এত সহজ নাও হতে পারে। আফগানিস্তান, লিবিয়া ও ইরাকের মতোই এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। ইতিমধ্যে ইরানে বেসামরিক হতাহতের খবর এসেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমোজগান-এ একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় কমপক্ষে ৭০ নিহত হয়েছে। এটিই কি সেই ‘সহায়তা’, যা মি. ট্রাম্প ইরানি জনগণকে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন?
সংঘাত অব্যাহত থাকলে আরও রক্তপাত হবে, পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। কারণ এই অঞ্চল বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একটি বড় বাণিজ্যকেন্দ্র। অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন, সঙ্গে সব রাষ্ট্রের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অঙ্গীকার। তবে তাদের আচরণ দেখে মনে হয়, তেল আবিব ও ওয়াশিংটন যুক্তির আহ্বানে সাড়া দেবে এমন সম্ভাবনা কম।

Kazi
৩ মাস আগেযে পাগল তার দেশের নাগরিকদের সঙ্গেই বিশ্বাস ঘাতক। গণতন্ত্র মানে না তাকে ভোট না দেওয়া অঙ্গ রাজ্য গুলির নাগরিকদের উপর হামলা চালায় তাকে বিশ্বাস করা যায় না।