এক সপ্তাহ বিমান হামলা বন্ধ রাখার পর গাজা ভূখণ্ডে ফের তাণ্ডব শুরু করেছে ইসরাইলি বাহিনী। দক্ষিণ-পশ্চিম গাজা সিটির আল-রশিদ রাস্তায় একটি গাড়িতে ইসরাইলি ড্রোনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গাজা সিটির পুলিশ প্রধান কর্নেল জামাল আবু কামিল (৪৩) নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আরও দুজন গুরুতর আহত হন। এছাড়া খান ইউনিসে একটি মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে চালানো পৃথক বিমান হামলায় আরেক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা ‘হুমকি দূর করতে’ আবু কামিলকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং তিনি হামাসের কমান্ডার ছিলেন। তবে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই করা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে গাজার পুলিশ বিভাগ। এক বিবৃতিতে পুলিশ জানিয়েছে, আবু কামিল কেবল তার অর্পিত প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতেন এবং কোনো সামরিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত ছিলেন না।
অন্যদিকে হামাস এই হত্যাকাণ্ডকে গাজায় বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা ছড়ানোর ইসরাইলি অপচেষ্টা বলে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত গাজা শান্তি পরিকল্পনার আওতায় সাময়িক বিরতির পর ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করার পরই নতুন করে এই বিমান হামলা শুরু হয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত বছরের অক্টোবরে চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে প্রতিনিয়ত চলা ইসরাইলি হামলায় ১,২৫০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত শান্তি চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের জোরালো দাবি জানিয়েছে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
