পূর্ব এশিয়ার দেশ জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় নির্বাচিত সরকার আসার পর ঢাকার সঙ্গে এই সম্পর্ক আরও জোরদারে মনোযোগী হয়েছে দূরপ্রাচ্যের এই দেশটি। এ লক্ষ্যে টোকিওর তরফে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সফরে নেয়ার আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে। ঢাকাকে একাধিকবার এই আগ্রহের বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। সর্বশেষ বুধবার ঢাকা-টোকিও পররাষ্ট্র পর্যায়ের সপ্তম পরামর্শ সভায় (এফওসি) জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির তরফে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণের বিষয়টি জানানো হয়।
গত কয়েক মাস ধরেই দুই দেশের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে। এর আগে ঢাকায় জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি গত ২৮শে জুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তারেক রহমানকে জাপান সফরে নেয়ার বিষয়ে আগ্রহের কথা জানান। পরে ১লা জুলাই বাংলাদেশ সফরে এসে জাপানের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী শিমাদা তোমাকি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে তাকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানান। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সর্বশেষ এফওসি সভায় সফরের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আলোচিত হয়েছে। আগের তুলনায় এ বিষয়ে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জাতিসংঘ সফরের আগে অথবা পরে জাপান যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।
গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তারেক রহমানের জাপান সফরের বিষয়টি আলোচনার টেবিলে রয়েছে বলে জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুবিধাজনক কোনো সময়ে এই সফর অনুষ্ঠিত হবে। এখনো সফরের দিনক্ষণ ঠিক হয়নি। দুই দেশের সুবিধানজনক সময়েই এই সূচি নির্ধারিত হবে। শিগগিরই এই সফর হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, আমাদের কিছু সাংবিধানিক কার্যক্রম রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের কথা উল্লেখ করা হয়।
ঢাকা-টোকিও পররাষ্ট্র পর্যায়ের এবারের পরামর্শ সভায় পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং জাপানের সিনিয়র ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নামাজু হিরোয়ুকি নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। এতে উচ্চপর্যায়ের সফরের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেছে দুই দেশ। এর মধ্যে গুরুত্ব পেয়েছে দুই দেশের যোগাযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য ও সবুজ জ্বালানি, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ), বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট (বিআইজি-বি) উদ্যোগ এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। এ ছাড়া দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও বিনিময় বাড়ানো, জাপানে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নাগরিক সমাজের মধ্যে যোগাযোগ, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং তাদের জন্য জাপানের মানবিক সহায়তা নিয়েও আলোচনা হয়।
