কতো শঙ্কাই না ছিল ডারউইন টেস্ট শুরুর আগে। সবচেয়ে বেশি আলোচনাÑ এই টেস্টে কি বাংলাদেশ পাঁচদিন টিকতে পারবে? ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পূর্ণশক্তির অজিদের বিপক্ষে কেমন কাটবে টাইগারদের! এই সব প্রশ্নের উত্তর ব্যাটে-বলে দিচ্ছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সাদা বলের লড়াইয়ে রঙিন দিন উপহার দিয়েছে। টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। কিন্তু তার সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণ করে দেবেন টাইগার পেসাররা, তা হয়তো অজি অধিনায়কের কল্পনাতেও ছিল না। পেস আক্রমণের সামনে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ৫৩ ওভারে ১৯৮ রান তুলে অলআউট হয়।
নাহিদ রানা না থাকার যে আক্ষেপ ছিল, তা ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদ উড়িয়ে দিয়েছেন। বল হাতে ১৭ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে ৬টি উইকেট নেন। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ব্যক্তিগত রেকর্ড। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তিন সংস্করণ মিলিয়ে পাঁচ উইকেট নেয়া প্রথম বাংলাদেশি বোলার তিনি। বাকি চার উইকেট ভাগ করেন তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন চৌধুরী। তাসকিন ৫৫ রানে এবং ইবাদত ৩৯ রানে দু’টি করে উইকেট নেন। জবাবে ব্যাটাররাও নিরাশ করেননি। প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৪ ওভারে এক উইকেটে ৯৬ রান সংগ্রহ করে। ওপেনার তানজিদ হাসান ৬৭ বলে ৩২ রান এবং মুমিনুল হক ৪৯ বলে ৩৫ রান করে অপরাজিত রয়েছেন। দিন শেষে নিজেদের অর্জন নিয়ে হাসান বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। বিশ্বসেরা দলগুলোর একটির বিরুদ্ধে এমন একটি চ্যালেঞ্জিং মুহূর্তে বোলিং করাটা সত্যিই অনেক কঠিন ছিল। দলের সবাই অনেক সমর্থন দিয়েছে; বিশেষ করে তাসকিন ভাই ও এবাদত ভাই দুর্দান্ত বোলিং করেছেন।’
জবাব দিতে নেমে ওপেনার সাদমান ইসলাম ২০ রান করে আউট হন। তবে তার বিদায়ের প্রভাব পড়তে দেননি মুমিনুল ও
তানজিদ।
প্রথম ইনিংসে ১০২ রানে পিছিয়ে থেকে দিনের খেলা শেষ করে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন তারা। অন্যদিকে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ম্যাচের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার জেইক ওয়েদারল্ড ও ট্রাভিস হেড প্রথম ১০ ওভারে ৩১ রান যোগ করেন। উদ্বোধনী জুটিতে ৪৫ রান ওঠার পর হাসান ২৩ রান করা ওয়েদারল্ডকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানান। নিজের পরের
ওভারে ২২ রান করা হেডকে বোল্ড করেন হাসান, বড় স্বস্তি দেন দলকে। এরপর আক্রমণে আসেন ইবাদত। তিনি ২০ বলে এক রান করা মার্নাস লাবুশেনকে সিøপে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচে পরিণত করেন। সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকতে ইতালিতে ছুটিতে ছিলেন ইবাদত। নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলামের চোটে তিনি জরুরি ডাকে দলে যোগ দেন। বিরতির ঠিক আগের বলে তাসকিনের বলে ক্যামেরন গ্রিনের ক্যাচ নেন মুশফিকুর রহীম। ১৩ রান করা গ্রিন
আউট হলে ৭৪ রানে চার উইকেট হারিয়ে বিরতিতে যায় অস্ট্রেলিয়া। বিরতির পর স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স কেয়ারি দলের রান এগিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করেন। তারা ৫৫ রানের জুটি গড়ে তোলেন।
বিরতির পর ইবাদত ১৯ রান করা কেয়ারিকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন। এরপর বল হাতে তাসকিন ১২ রান করা বো ওয়েবস্টারকে বোল্ড করে সাজঘরের পথ দেখান। চা বিরতির আগে হাসান নয় রান করা কামিন্সকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে ফেরত পাঠান। বিরতির পর হাসান এক রান করা মিচেল স্টার্ককে আউট করেন। স্মিথ ১০৯ বলে ৭১ রান করেন। যদিও দুই রানে তানজিদের হাতে জীবন পেয়েছিলেন স্মিথ। বড় শট খেলতে গিয়ে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের ক্যাচে হাসানকে উইকেট দেন তিনি। এতে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন হাসান। এরপর সাত রান করা নাথান লায়নকে আউট করে অজিদের ১৯৮ রানে অলআউট করে দেন এই তরুণ পেসার। হেইজেলউড চার রানে অপরাজিত থাকেন। টেস্টের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয়বার যেখানে বাংলাদেশের পেসাররা ইনিংসে ১০টি উইকেটই শিকার করেন। এরপর নিজেদের ১ম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ ওভারে ৩৫ রান তোলে বাংলাদেশ। ২০ রান করা সাদমানকে গালিতে ক্যাচ বানিয়ে আউট করেন স্টার্ক। এই উইকেটের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার রাঙ্গানা হেরাথকে ছাড়িয়ে ৪৩৪ উইকেট নিয়ে টেস্টের সফলতম বাঁহাতি বোলার হন স্টার্ক। এরপর তানজিদ ও মুমিনুল অবশিষ্ট ১৬ ওভার পার করে ৬০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন। মুমিনুল তার ৪৯ বলের ইনিংসের পথে ছয়টি চার মারেন। এই রান করার মাধ্যমে সাবেক ব্যাটার তামিম ইকবালের ৫১৩৪ রান পার করে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টেস্ট রান সংগ্রাহক হন মুমিনুল।
