এশিয়ান গেমসে অনিশ্চিত জিমি মিমো!

এশিয়ান গেমসে অনিশ্চিত জিমি মিমো!

ফন্ট সাইজ:

১৯শে সেপ্টেম্বর আইচি নাগোয়াতে শুরু হবে এশিয়ান গেমসের এবারের আসর। এই আসরে ২৬ ডিসিপ্লিনে অংশ নিবে বাংলাদেশ। ৩০শে জুন ছিল এশিয়ান গেমসে খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তাদের নাম নিবন্ধের শেষ দিন। এশিয়ান গেমসে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডই ভিসা। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বাংলাদেশে গেমসের সকল কার্ড চলে আসার কথা। এই মুহূর্তে নতুন করে নাম নিবন্ধন করা কঠিন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন (বিওএ)-এর কর্মকর্তারা। আর এ কারণেই এশিয়ান গেমসে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছেন হকি দলে নতুন করে ডাক পাওয়া রাসেল মাহমুদ জিমি, পুস্কর খিসা মিমোসহ ছয় খেলোয়াড়। এই তালিকায় আছেন জার্মান কোচ গেরহার্ড পিটারসহ নতুন কোচিং স্টাফরাও।

জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে ২৭ ফেডারেশনে নতুন অ্যাডহক কমিটি দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। কমিটি বদল হওয়ার পর এশিয়ান গেমসে কর্মকর্তাদের তালিকা নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে। কারণ এশিয়ান গেমসে ম্যানেজার হিসেবে ছিলেন আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক। তাই কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার, ব্যাডমিন্টন, শুটিং, ভারোত্তোলনসহ ১১ ফেডারেশনের কোচ, খেলোয়াড়, কর্মকর্তা মিলিয়ে মোট ৪০ জনের পরিবর্তনের আবেদন করেছে। অন্য ফেডারেশনের আবেদন ইতিমধ্যে আয়োজকদের কাছে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের শেফ দ্য মিশন বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মেজর ইমরোজ আহমেদ (অব) বলেন, ফেডারেশনের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত অনুরোধ আমরা গেমস কর্তৃপক্ষকে পাঠিয়েছি। এটা তারা বিবেচনা করবে কিনা তাদের বিষয়। নির্ধারিত ডেডলাইন তো শেষ-ই, গেমস শুরু হতে আর এক মাসও নেই। বাংলাদেশের সেরা নারী শুটার কামরুন নাহার কলি বিগত কমিটির রোষানলে ছিলেন। তাই তার নাম এশিয়ান গেমসে ছিল না। শুটিং ছাড়া বাকি ফেডারেশনগুলোর নাম পরিবর্তনের অনুরোধ মূলত কোচ-কর্মকর্তার। অন্য সকল ফেডারেশন কমিটি রদবদল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অলিম্পিকে অনুরোধ করেছে। আর হকি ফেডারেশন এই সংক্রান্ত চিঠিই দিয়েছে মাত্র দু’দিন আগে, গত বুধবার। হকি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আরিফুল হক প্রিন্স বলেন, ‘গত পরশু আমাদের নির্বাহী কমিটির সভা হয়েছে। সভার পর আমরা খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা মিলিয়ে ৬ জনের নতুন অন্তর্ভুক্তি চেয়ে চিঠি দিয়েছি। বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শেফাউল কবির (অব) গতকাল হকি ফেডারেশনের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন থেকে ইতিমধ্যে আয়োজকদের এক দফা অনুরোধ করেছে। এরপর আবার হকির জন্য অনুরোধ করা এবং সেটা কার্যকর হওয়া বেশ কঠিনই। গেমসের শেফ দ্য মিশন ইমরোজ বলেন, গেমসে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া দেড় বছর আগে থেকে শুরু হয়। প্রথমে লং লিস্ট হয়। সেখানে প্রতি ডিসিপ্লিনে দুই বা তিনগুণও খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তার নাম দেয়া যায়। পরে শর্ট লিস্টের সময় খেলোয়াড় ইনজুরি বা পরিবর্তন করতে হলে লং লিস্ট থেকে করা যায়। লং লিস্টে নাম নেই এবং ডেডলাইন পার হওয়ার এক মাস পর নতুন করে অন্তর্ভুক্ত অনেক কঠিন। ২০২৩ সালে হাংজু এশিয়ান গেমসে নারী ফুটবল দলের কোচ সাইফুল বারী টিটু এই সমস্যায় পড়েছিলেন। বাংলাদেশ থেকে মাত্র এ রকম একটি ঘটনা হওয়ায় বিশেষ ব্যবস্থায় বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন অলিম্পিক কাউন্সিল অফ এশিয়াকে অনুরোধ করেছিল। বিওএ-তে সেই অনুরোধ গ্রাহ্য হয়েছিল। এবার প্রায় অর্ধশতাধিক অনুরোধ হওয়ায় কয়টা গ্রাহ্য হয় সেটাই প্রশ্ন। অন্য ডিসিপ্লিনে কর্মকর্তা বদল না হলেও তেমন সমস্যা নেই তবে হকিতে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, বিদেশি কোচের কার্ড না হলে জার্মানি সফর, গেমসের ম্যাচ পরিকল্পনা সব কিছু ভেস্তে যাবার উপক্রম হবে।