একটি ভিডিওতে দেখা গেছে দুবাইয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ খলিফার কাছে বিস্ফোরণ এবং ধোঁয়া উঁচু হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরান। বুর্জ খলিফার কাছে এই বিস্ফোরণ ও ধোঁয়া তারই অংশ বলে মনে হচ্ছে। একটি ভিডিওতে দেখা যায় কালো ধোঁয়া উঠে আসছে। ইরানী ড্রোন বুর্জ খলিফার কাছে দেখা যাওয়ার পর পরই এমন দৃশ্য ধরা পড়ে। এখনো নিশ্চিত নয় যে, এই আইকনিক দুবাই স্কাইস্ক্র্যাপারটি ইরানের হামলার লক্ষ্য ছিল কি না এবং এর কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না। দিনের শুরুতে বিস্ফোরণের কারণে শহরের অন্যান্য অংশের মতোই এই ভবনও খালি করা হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।
উল্লেখ্য, বুর্জ খলিফা ৮২৮ মিটার উচ্চতার। এই ভবনটি দুবাইয়ের কেন্দ্রে অবস্থিত এবং এর আনুমানিক মূল্য ১.৫ বিলিয়ন ডলার। এখান থেকে দুবাই শহর ও আরব উপসাগরকে চমৎকারভাবে দেখা যায়। ১২৪তম, ১২৫তম ও ১৪৮তম তলায় থাকা পর্যবেক্ষণ ডেকে প্রতি বছর লাখ লাখ দর্শক যান এই দৃশ্য উপভোগ করতে। বুর্জ খলিফার ডেভেলপার ইমার প্রপার্টিজের জন্য প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলারে বীমা করা হয়েছে। এই বীমা শুধু মূল কাঠামোকে কভার করে। তবে পৃথক অ্যাপার্টমেন্ট, হোটেল ইন্টিরিয়র এবং অফিসগুলির জন্য মালিকরা আলাদাভাবে বীমা করেছে।
দুবাইতে বিস্ফোরণ
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে দুবাই উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান শহরগুলোর একটি। এখানে ইরান হামলার জবাবে সিদ্ধান্তমূলক প্রতিক্রিয়া দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দিনের শুরুতে আইকনিক পাম জুমেইরা এলাকায় একটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। সেখানে মানবসৃষ্ট দ্বীপের একটি ভবন আগুনে ঢেকে যায়। ভিডিওতে দেখা যায় কালো ধোঁয়া উঠে আসছে। আর দুবাইয়ের বাসিন্দারা বিস্ফোরণের পর কয়েকটি বড় শব্দ শোনেন। এএফপিকে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, তারা ঘটনাস্থলের দিকে অ্যাম্বুলেন্স ছুটতে দেখেছেন। ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন। তাদেরকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দুবাই মিডিয়া অফিস নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে যে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দা ও পর্যটকদের শান্ত থাকতে এবং সামাজিক মিডিয়ায় ঘটনার ভিডিও বা ছবি ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেছে।
নেক্সটা টিভির শেয়ার করা আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায় একটি প্রাণঘাতী শাহেদ ড্রোন কাজ করছে। এই ড্রোনটি দুবাইয়ের জনবহুল এলাকায় দুটি ভবনের মাঝখানে আঘাত হানে এবং প্রচণ্ড বিস্ফোরণের সঙ্গে আগুন ধরে যায়। শাহেদ ড্রোন ইরানের আর্মার সবচেয়ে প্রাণঘাতী ড্রোনগুলোর মধ্যে একটি। বুর্জ খলিফার ঘটনায় একই ধরনের ড্রোন ব্যবহৃত হয়েছে কি না তা জানা যায়নি।
