ইফতারির বিরতিতে দর্শকদের দুয়ো, ক্ষুব্ধ গার্দিওলা

ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ

ইফতারির বিরতিতে দর্শকদের দুয়ো, ক্ষুব্ধ গার্দিওলা

ফন্ট সাইজ:

লিডস ইউনাইটেডের মাঠে ১-০ গোলে জয় তুলে নিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। তবে শনিবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের ম্যাচটিতে ঘটে গেছে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। মুসলিম ফুটবলারদের ইফতারের জন্য দেয়া সাময়িক বিরতিতে গ্যালারি থেকে এদিন উচ্চ স্বরে দুয়ো ভেসে আসে। ম্যাচের পর এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পেপ গার্দিওলা। আগত দর্শকের একাংশের তীব্র সমালোচনা করে তাদের প্রতি আরও ‘সম্মান’ প্রদর্শনের আহ্বান জানান সিটিজেন কোচ।
ম্যাচের জয়সূচক একমাত্র গোলটি প্রথমার্ধের যোগ করা দ্বিতীয় মিনিটে করেন আন্তোয়ান সেমেনিও। পশ্চিম ইয়র্কশায়ারে সূর্যাস্তের সময়ের সঙ্গে মিল রেখে ম্যাচের ত্রয়োদশ মিনিটে রেফারি খেলা সাময়িক স্থগিত করেন, যাতে সিটির মুসলিম ফুটবলাররা রোজা ভাঙতে পারেন। তখন গ্যালারির একটি অংশ থেকে দুয়ো ও কটূক্তি ভেসে আসতে শোনা যায়। ওই সময়ে সফরকারীদের ওমর মারমুশ, রায়ান আইত-নুরি ও রায়ান শেরকি মাঠে তরল পান করে ইফতার সম্পন্ন করেন। বেঞ্চে থাকা আব্দুকোদির খুসানভও যোগ দেন তাদের সঙ্গে। এ সময় স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় একটি বার্তা ভেসে ওঠে, যেখানে লেখা ছিল, ‘আজকের ম্যাচটি যেহেতু পবিত্র রমজান মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাই খেলোয়াড়দের রোজা ভাঙার সুযোগ দিতে সাময়িকভাবে খেলা স্থগিত করা হয়েছে।’ তখনই ঘটে সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি।
ম্যাচের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে গার্দিওলা বলেন, ‘এটিই আধুনিক বিশ্ব। চারদিকে কী ঘটছে, দেখুন। ধর্মকে সম্মান করতে হবে, বৈচিত্র্যকে মর্যাদা দিতে হবে। এটিই মূল কথা। রমজানে রোজা রাখা খেলোয়াড়দের জন্য এক-দুই মিনিট সময় দেয়ার অনুমতি প্রিমিয়ার লীগ আগেই দিয়েছে। খেলোয়াড়েরা সেটিই করেছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটিই বাস্তবতা।’
বৈষম্যবিরোধী সংস্থা ‘কিক ইট আউট’ এক বিবৃতিতে জানায়, রমজান মাসে ইফতারের জন্য খেলা সাময়িক বিরতি দেয়া কয়েক বছর ধরেই অনুমোদিত প্রোটোকল। সংস্থাটি বলে, ‘আজ সন্ধ্যায় এল্যান্ড রোডে সিটির খেলোয়াড়রা রোজা ভাঙার সময় কিছু লিডস সমর্থকের দুয়োর ঘটনা অত্যন্ত হতাশাজনক। বিষয়টি আরও দুঃখজনক এ কারণে যে, স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় এ সম্পর্কে ব্যাখ্যাও দেখানো হয়ে। মুসলিম খেলোয়াড় ও সম্প্রদায়ের জন্য খেলাটিকে স্বাগতপূর্ণ করে তোলার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ। তবে শিক্ষা ও গ্রহণযোগ্যতার পথে ফুটবলের যে এখনও অনেকটা পথ পাড়ি দেয়ার বাকি, তা আজকের প্রতিক্রিয়ায় দেখা গেল।’
এদিন লিডসের প্রধান কোচ ড্যানিয়েল ফ্রেক নিষিদ্ধ থাকায় ডাগআউটে ছিলেন তার সহকারী এডমন্ড রিমার। এ ঘটনায় তিনি বলেন, ‘আমি খেলায় মনোযোগী থাকার কারণে স্পষ্টভাবে শুনিনি। তবে এমন ঘটনা ঘটলে সমর্থকদের একটি অংশের আচরণে আমি অবশ্যই হতাশ।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন