দেড় দশক আগে শেষ সফরে অস্ট্রেলিয়া হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশকে। তবে অতীত ভুলে এবার দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের সামনে নতুন এক সোনালী ইতিহাস উপহার দিতে চায় বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক সময়ে টাইগারদের পারফরম্যান্সের গ্রাফ এবং শক্তির গভীরতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
গতকাল ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসে ঘরের মাঠের এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সিরিজকে নিজেদের জন্য এক বিরাট সুযোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। জাতীয় দলের সব অভিজ্ঞ ও তরুণ ক্রিকেটাররা সবাই দারুণ ফর্মে আছেন এবং ঘরোয়া ঢাকা প্রিমিয়ার লীগেও অনেক ভালো খেলেছেন। প্রতিপক্ষ দল অনেক শক্তিশালী হলেও নিজেদের শক্তি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ম্যাচ জয়ের ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী বাংলাদেশ অধিনায়ক। চোট ও ব্যক্তিগত কারণে অস্ট্রেলিয়ার একাধিক নিয়মিত খেলোয়াড় এই সফরে না আসলেও সফরকারীদের শক্তি নিয়ে অতিরিক্ত ভাবছে না স্বাগতিক বাংলাদেশ দল। মিরাজের স্পষ্ট বার্তা, নিজেদের সেরাটা মাঠে উজার করে দেওয়াই প্রধান লক্ষ্য। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এসে অস্ট্রেলিয়াকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক মিরাজ বলেন, ‘আমাদের একটাই প্ল্যান, ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে, ম্যাচ জিততে হবে।’
দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পর জাতীয় ওয়ানডে দলে ফিরেছেন অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে রান বন্যা বইয়ে দেওয়ার পরও জাতীয় ওয়ানডে দলে তার ডাক পাওয়া নিয়ে ক্রীড়ামহলে অনেক জলঘোলা হয়েছে। সাবেক প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন একসময় মন্তব্য করেছিলেন যে মিরাজ একাদশে থাকলে মোসাদ্দেকের সুযোগ নেই, যদিও পরে তিনি দুঃখপ্রকাশ করেন। তবে সেই বিতর্ককে মাঠের পারফরম্যান্সে উড়িয়ে দিয়ে আবারও জাতীয় দলে নিজের স্থান পুনরুদ্ধার করেছেন তিনি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে মোসাদ্দেক ৪৩ ম্যাচ খেলেছেন, যার মধ্যে ২৭টি ম্যাচেই একাদশে মিরাজও তার সঙ্গে খেলেছেন। ঘরোয়া ঢাকা প্রিমিয়ার লীগের গত মৌসুমে আবাহনী লিমিটেড দলকে নেতৃত্ব দিয়ে শিরোপা জিতিয়েছেন এই তরুণ তারকা অলরাউন্ডার। সেবার ব্যাট হাতে ৪৮.৭০ গড় ও ১০৬.৩৩ স্ট্রাইক রেটে তিনি করেছিলেন ৪৮৭ রান। পাশাপাশি বল হাতে ওভারপ্রতি মাত্র ৪.০৪ রান দিয়ে লীগে সর্বোচ্চ ৩০ উইকেট শিকার করেন। চলতি লীগে আবাহনীর হয়ে ৬ ইনিংসে ৭৭.৫০ গড়ে ৩১০ রান করার পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ১২ উইকেট।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজ মাঠের লড়াইয়ে গড়ানোর ঠিক আগমুহূর্তে বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন শন টেইট। আসন্ন হোম সিরিজে তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানদের মতো তরুণ ও প্রতিভাবান পেসারদের জন্য এই কোচের সান্নিধ্যে থেকে দীক্ষা নেওয়ার বড় একটি সুযোগ ছিল। সাবেক এই গতিশীল অস্ট্রেলীয় ফাস্ট বোলার শেষ মুহূর্তে পদ ছেড়ে দেওয়ায় লাল-সবুজ শিবিরে কিছুটা ধাক্কা লাগলেও দলের অধিনায়ক একে ইতিবাচক সুযোগ হিসেবেই দেখছেন।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে টেইটের হঠাৎ চলে যাওয়া প্রসঙ্গে দলের অধিনায়ক মিরাজ বলেন, ‘তিনি শেষ মুহূর্তে বলেছেন। ক্রিকেট বোর্ড তার সঙ্গে আলোচনা করেছে। আমার কাছে মনে হয়, লোকাল যে কোচগুলো আছে তাদের জন্য একটা বিরাট সুযোগ।’ অধিনায়ক মনে করেন, অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহীম ও তাসকিনদের পেস আক্রমণকে শাণিত করতে স্থানীয় কোচেরা অনেক বড় ভূমিকা রাখবেন। মিরাজের মতে, আমাদের স্থানীয় যারাই আছেন, তারাও অনেক যোগ্যতাসম্পন্ন এবং তারা যদি সুযোগটা নিতে পারেন, তবে তাদের দীর্ঘস্থায়ী আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য এটি অনেক ভালো হবে।
দুই স্পিনিং অলরাউন্ডার মিরাজ এবং মোসাদ্দেক একই সঙ্গে একাদশে খেললে দলের ভারসাম্য বাড়বে বৈ কমবে না বলে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাস। দীর্ঘ বিরতির পর মোসাদ্দেকের স্কোয়াডে প্রত্যাবর্তনকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন দলের তরুণ অধিনায়ক। অধিনায়কের মতে, তারা দুজন এর আগেও বহু ম্যাচে একসঙ্গে দেশের হয়ে লাল-সবুজ জার্সি গায়ে মাঠ মাতিয়েছেন।
গতকাল এ বিষয়ে মিরাজ বলেন, ‘আমি আর মোসাদ্দেক কিন্তু একসঙ্গে বাংলাদেশ দলে অনেকদিন খেলেছি। পূর্বের এক বিশ্বকাপেও আমরা খেলেছি একসঙ্গে। আমার কাছে মনে হয়, এটা কোনো ভিন্ন ইস্যু নয়। মোসাদ্দেক তার ভূমিকা পালন করবে, আমি আমার কাজ করব। মোসাদ্দেক হলো ব্যাটিং অলরাউন্ডার, আমি হলো বোলিং অলরাউন্ডার।’ মাঠের ক্রিকেটে বাড়তি ও নির্ভরযোগ্য ব্যাকআপ বোলার হিসেবে মোসাদ্দেকের কার্যকরী অফস্পিন বোলিং দলের মূল বোলারদের উপর চাপ অনেকাংশে কমাবে। মিরাজের বিশ্বাস, মাঠে পাঁচজন নিয়মিত বোলার নিয়ে খেলার সময় মোসাদ্দেকের মতো একজন নির্ভরযোগ্য ষষ্ঠ বোলার থাকলে দলের ভারসাম্য ও নিজের অধিনায়কত্বে অতিরিক্ত ভরসা এবং অনেক বেশি স্বস্তি ফিরে আসে।
