ভারতে প্রথম সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি ও টেস্ট সুবিধা উদ্বোধন করা হয়েছে শনিবার। বিদেশি চিপ নির্মাতাদের ওপর নির্ভরতা কমানোর এবং চীনের দখলে থাকা সেক্টরে অংশ নেওয়ার সরকারের প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন হিসেবে দেখা হচ্ছে এ সুবিধাকে। বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর দিয়ে বলছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার নিজের রাজ্য গুজরাটে মার্কিন প্রতিষ্ঠান মাইক্রন টেকনোলজি’র সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি, টেস্ট এবং প্যাকেজিং ইউনিট উদ্বোধন করেন এবং ভারতের প্রযুক্তিগত আকাক্সক্ষার ‘নতুন যুগের সূচনা’ হিসেবে একে বর্ণনা করেন। মোদি বলেন, যখন ভবিষ্যতে যুবক ভারতীয়রা ফিরে তাকাবে, তারা এই দশককে আমাদের প্রযুক্তি ভবিষ্যতের মোড় হিসেবে দেখবে। অনুষ্ঠানটি তার সরকারি ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রচার করা হয়।
এই প্ল্যান্টটি মাইক্রনের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক থেকে উন্নত সেমিকন্ডাক্টর ওয়েফারকে পরিপূর্ণ মেমরি ও স্টোরেজ পণ্য হিসেবে রূপান্তর করবে। ভারতের সেমিকন্ডাক্টর বাজার ২০২৩ সালে ৩৮ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০২৪-২৫ সালে প্রায় ৪৫-৫০ বিলিয়ন ডলারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১১০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। নয়াদিল্লি বর্তমানে ১০টি চিপ প্রকল্প উন্নয়ন করছে, যার মোট মূল্য ১৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এর মধ্যে নয়ডা এবং ব্যাঙ্গুলোর শহরে দুটি আধুনিক ৩-ন্যানোমিটার ডিজাইন সুবিধা রয়েছে। মোদি বলেন, কমপক্ষে আরও তিনটি সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প শীঘ্রই উৎপাদন শুরু করবে তার সরকার। ভারত, যা সফটওয়্যারের জন্য পরিচিত, এখন হার্ডওয়্যার ক্ষেত্রেও তার পরিচয় তৈরি করছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদি এই উদ্বোধনকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা গভীর করার সঙ্গে যুক্ত করেন এবং উল্লেখ করেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন প্যাক্স সিলিকা জোটে যোগ দিয়েছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং সরবরাহ চেইন নিরাপত্তার উপর মনোযোগ দেয়। এক্ষেত্রে চীনের শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে। মোদি বলেন, সমস্ত বিশ্ব এমন সরবরাহ চেইন নিরাপদ করতে চায়, যা মানবতার ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর বলেন, এ উদ্বোধন ‘ভারতের সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ চেইনে একটি উৎপাদক দেশ হিসেবে প্রবেশের প্রতীক। এটি মাত্র শুরু।’
