প্রেসিডেন্ট পদে বিএনপির প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দলের সিনিয়র নেতাদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ‘বিএনপির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিছুক্ষণ আগে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।’
তিনি জানান, তিনি (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগমীর) প্রার্থী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব এবং স্থায়ী কমিটির সদস্যের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কে হচ্ছেন-এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, ‘এখনো বৈঠক চলমান আছে। দলের পক্ষ থেকে বিএনপির চেয়ারম্যানের কাছে দায়িত্ব দেয়া আছে। তিনি সেটা সবার মতামত নিয়ে জানাবেন। আপনারা পরে জানতে পারবেন।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেটা আরও কী কী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া আছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে আপনাদেরকে পরবর্তীতে জানানো হবে।’
এর আগে ওই বৈঠকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, চিফ হুইপ, হুইপ ও দলের যুগ্ম মহাসচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন আজ। আগামী ২০ আগস্ট প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীই হবেন বঙ্গভবনের বাসিন্দা।
১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (শিক্ষা ক্যাডারের) এর সদস্য হিসেবে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করে রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। ১৯৮৮ সালে তিনি নিরপেক্ষ প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে দেশব্যাপী এরশাদবিরোধী আন্দোলন চলাকালে বিএনপিতে যোগদান করেন তিনি। ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি’র সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯১, ২০০১ ও ২০২৬ সালে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
