দিনাজপুর-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা ব্যাপক জমে উঠেছে। এ আসনে ত্রিমুখী ভোটযুদ্ধের সম্ভাবনা রয়েছে। পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে ৭ জন প্রার্থী প্রতীক পাওয়ার পর থেকে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেনÑ বিএনপি’র প্রার্থী যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার এ কে এম কামরুজ্জামান (ধানের শীষ), ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপি’র ডা. মো. আব্দুল আহাদ (শাপলা কলি), জাতীয় পার্টির মো. কাজী আব্দুল গফুর (লাঙ্গল) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপি’র সাবেক এমপি এ জেড এম রেজওয়ানুল হক (তালা), মো. রুস্তম আলী (মোটরসাইকেল), এডভোকেট মো. হযরত আলী বেলাল (হরিণ) এবং বিএনপি’র আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী এস এম জাকারিয়া বাচ্চু (কলস)। প্রার্থীরা নিজ নিজ কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। ২০২৪ এর ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থীরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ না থাকায় বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে সাবেক এমপি এ জেড এম রেজওয়ানুল হক ঘর গোছাতে থাকেন। ঠিক তেমনিভাবে জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী হিসেবে সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনও ব্যাপক প্রস্তুতি নেন। পাশাপাশি জাতীয় পার্টি, এনসিপিসহ অন্যান্য দলের পক্ষ থেকেও প্রস্তুতি চলে। নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার এ কে এম কামরুজ্জামানকে মনোনয়ন দেয়া হলে দলের সাবেক এমপি এ জেড এম রেজওয়ানুল হক কর্মী-সমর্থকদের দাবির প্রেক্ষিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রার্থী হন। ফলে তাকেসহ তার অনুসারী অনেক দলীয় নেতাদের বহিষ্কার করা হয়। একইভাবে বিএনপি নেতা এস এম জাকারিয়া বাচ্চু স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এদিকে জামায়াত এনসিপিকে নিয়ে ১১ দলীয় জোট গঠিত হলে জোটের প্রার্থী হিসেবে এনসিপি’র ডা. মো. আব্দুল আহাদ প্রার্থী হিসেবে ভোটযুদ্ধে নামেন। এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রচার-প্রচারণার দিক থেকে বিএনপি’র প্রার্থী ব্যারিস্টার এ কে এম কামরুজ্জামান এবং বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক এমপি এ জেড এম রেজওয়ানুল হক এগিয়ে রয়েছেন। বিএনপি’র প্রার্থী-সমর্থকদের কথা স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করলেও তিনি কোনো মন্ত্রী হতে পারবেন না, এজন্য দলের মনোনীত প্রার্থীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ জেড এম রেজওয়ানুল হক ও কর্মী-সমর্থকদের দাবি বিগত ৩২ বছর ধরে দলের হাল ধরে এ এলাকায় বিএনপিকে সুসংগঠিত করা হয়েছে। অথচ দলের সুদিনে আমাদের প্রার্থিতা না দিয়ে হঠাৎ করে আবির্ভূত ব্যক্তিকে প্রার্থিতা দিয়ে আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এ রকম দাবি নিয়ে তারা এলাকায় ভোট প্রার্থনা করছেন। এরপর এ জেড এম রেজওয়ানুল হক আর প্রার্থী হবেন না বলে অনেকে জানান। অন্যদিকে এনসিপি’র প্রার্থীও জোটের নেতাকর্মীদের নিয়ে জোরেশোরে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এবারের নির্বাচনে প্রার্থী-সমর্থকদের সশরীরে প্রচার-প্রচারণা ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণা চলছে ব্যাপকভাবে। প্রচারণার সঙ্গে একে অপরকে ঘায়েল করতে কাদা ছোড়াছুড়ি করতে পিছপা হচ্ছেন না। অবস্থাদৃষ্টে দেখা যাচ্ছে, এ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাদ্দাম হোসেন জানান, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদেরও নিয়োজিত করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে বডি ওর্ন ক্যামেরা চালুর মাধ্যমে কন্ট্রোল সেলে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে। মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এম এ ফারুক জানান, এলাকায় কোনো ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নেই এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।
দিনাজপুর-৫ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা
মনজুরুল আলম, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
১০ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
