চট্টগ্রামে আবারো তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। মহেশখালীর দু’টি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় নগরীতে চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এতে আবাসিক গ্রাহকদের পাশাপাশি সিএনজি স্টেশন ও শিল্পকারখানায়ও এর প্রভাব পড়েছে। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে বুধবার সর্বোচ্চ ১৮০ থেকে ২১০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে চাহিদার তুলনায় ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের মহেশখালীতে থাকা দু’টি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সম্মিলিত রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা ১১০০ এমএমসিএফডি। বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত টার্মিনাল দু’টি থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৪১০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে এক্সিলারেট এনার্জির একটি বয়লার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে সামিট এলএনজি টার্মিনালে নতুন এলএনজিবাহী জাহাজ প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নিরাপদে বার্থিং করতে পারছে না। ফলে জাহাজ থেকে এলএনজি আনলোডিংও শুরু করা যাচ্ছে না। পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) মো. শোয়েব জানান, এলএনজিবাহী জাহাজ টার্মিনালে ভেড়ানোর জন্য বাতাসের গতি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকা প্রয়োজন।
বর্তমানে বাতাসের গতি প্রায় ৩৮ নট থাকলেও নিরাপদ বার্থিংয়ের জন্য তা ২০ নটের মধ্যে থাকা দরকার। ফলে নিরাপত্তার কারণে জাহাজটি টার্মিনালে ভেড়ানো যাচ্ছে না। তিনি বলেন, বর্তমানে মহেশখালীর টার্মিনালগুলো থেকে জাতীয় গ্রিডে ৪০ কোটি ঘনফুটের কিছু বেশি গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে এলএনজিবাহী জাহাজটি টার্মিনালে ভিড়তে পারলে সরবরাহ বেড়ে প্রায় ৭৫ কোটি ঘনফুটে উঠতে পারে। এর আগে গত ২১শে জুলাই একটি এলএনজি টার্মিনালে বয়লার সমস্যার কারণে সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। পরে একটি বয়লার চালু করে আংশিক সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়।
