ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) থেকে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও হুণ্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের মামলায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. হাসানুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন বলেন, মামলায় এম এ সবুরের পক্ষে আদালতে সময়ের আবেদন করা হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি নামঞ্জুর করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
এর আগে গত ১৭ই মে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এম এ সবুরকে আট সপ্তাহের মধ্যে চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ মহানগর বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। ওই আদেশের পর গত ৯ই জুলাই তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। দুদক সূত্রে জানা যায়, মামলাটিতে অভিযোগপত্র দাখিলের তথ্য গোপন করে হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। অথচ এর আগেই গত ৫ই জানুয়ারি দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান ৩৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে মামলার বিচার শুরু হয়।
দুদকের পিপি মোকাররম হোসাইন বলেন, অভিযোগপত্র দাখিলের তথ্য গোপন করে হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিনের আদেশ নেয়া হয়েছিল। পরে বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে আইনি প্রক্রিয়ায় এম এ সবুরকে চট্টগ্রামের বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, আরামিট গ্রুপের একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করা হয়। পরে ওই অর্থ প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের মাধ্যমে উত্তোলন করে হুণ্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রী এবং ইউসিবি’র সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুরসহ মোট ৩৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় সাক্ষী রয়েছেন ৯২ জন। এরই মধ্যে ৩৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।
