সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের ৩ ঝুঁকি

সহযোগীদের খবর

সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের ৩ ঝুঁকি

ফন্ট সাইজ:

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের ৩ ঝুঁকি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়লেও আগামী জুন পর্যন্ত দেশের জ্বালানি আমদানিতে তাৎক্ষণিক শঙ্কা দেখছে না বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সরকার টু সরকার চুক্তি ও উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির চুক্তি সম্পন্ন রয়েছে। বিকল্প রুট ব্যবহারের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক দামের ঊর্ধ্বগতি, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ- এই তিনটি ঝুঁকি বড় হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিপিসি জানিয়েছে, চীন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রয়েছে। অপরিশোধিত তেল আসছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। অতীতে এসব চালান মূলত হরমুজ প্রণালি হয়ে এলেও এখন বিকল্প সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে ফুজাইরাহ টার্মিনাল ব্যবহারের সুযোগ তৈরি রাখা হয়েছে। বছরে বিকল্প রুটে আনার প্রস্তুতি রয়েছে ১৪ থেকে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল।

বিপিসির হাতে প্রায় ৩০ দিনের কৌশলগত মজুত রয়েছে। প্রতি মাসে গড়ে ৪৫০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে জ্বালানি আমদানি ও পরিশোধন করা হয়। আমদানি প্রিমিয়াম আগেই নির্ধারিত থাকায় তাৎক্ষণিক মূল্যবৃদ্ধির পুরো চাপ পড়ছে না। তবে স্পট মার্কেটে দাম বাড়লে ভবিষ্যৎ চালানে ব্যয় বাড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘ হলে জাহাজ চলাচলে বীমা ব্যয় বাড়বে, পরিবহন সময় দীর্ঘ হবে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে, যা সরাসরি মূল্যে প্রভাব ফেলে।

জ্বালানি তেলের আপাতত সংকট না হলেও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে আনা এলএনজির প্রায় পুরোটাই আসছে হরমুজ প্রণালি হয়ে। ইরান সংকট দীর্ঘায়িত হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়তে পারে আমদানি ব্যয়, যা সরাসরি বিদ্যুৎ ও শিল্পকারখানার উৎপাদনকে প্রভাবিত করবে।

ব্যারলপ্রতি দাম সেঞ্চুরি করতে পারে


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় গত শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি যেখানে ব্যারেলপ্রতি দাম ছিল ৬১ ডলার, তা বেড়ে বর্তমানে ৬৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গতকাল শনিবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্টা ক্রুড ও মারবান ক্রুডের দাম ছিল ৭৩ থেকে ৭৪ ডলার। হরমুজ প্রণালিতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫ থেকে ১১০ ডলারে পৌঁছার আশঙ্কা রয়েছে।

মার্কিন জ্বালানি তথ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন বিশ্বে ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ১৮ থেকে ১৯ মিলিয়ন ব্যারেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ তরল প্রাকৃতিক গ্যাসও এই পথ দিয়ে যায়। ফলে এই রুটে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যকে টালমাটাল করে দিতে পারে।

ভারতের ইকুইরাস সিকিউরিটিজ বলেছে, হরমুজ প্রণালি অচল হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫ থেকে ১১০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে ইরানের দৈনিক উৎপাদন প্রায় ৩৩ লাখ ব্যারেল, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ৩ শতাংশ। সরবরাহের প্রতি ১ শতাংশ বিঘ্নে দাম ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস আগেই সতর্ক করেছিল, বড় ধরনের অবরোধ হলে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াতে পারে। সংস্থাটির মতে, আংশিক বিয়ের ঝুঁকি থাকলেও ব্যারেলপ্রতি ২০ থেকে ৪০ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত মূল্য যুক্ত হওয়ার নজির রয়েছে।

বাংলাদেশের ঝুঁকি

বিপিসির পরিচালনা ও পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক এ কে এম আজাদুর রহমান জানিয়েছেন, চলতি বছর দেশে জ্বালানি তেলের ব্যবহারের পরিমাণ প্রায় ৬৮ লাখ টনে পৌছাতে পারে। এই জ্বালানি তেলের ৮০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। প্রতি মাসে গড়ে সাড়ে চার থেকে পাঁচ লাখ টন জ্বালানি আমদানি করা হয়। কৃষি, শিল্পকারখানা ও গণপরিবহন এই তেলের প্রধান ভোক্তা। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে সরাসরি প্রভাব পড়বে জ্বালানি তেলের দামে।
দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরকেন্দ্রিক কনটেইনার চলাচলেও এই রুট ব্যবহৃত হয়। মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশ যে পণ্য রপ্তানি করে, সেগুলোর পরিবহনেও ব্যয় বাড়বে। চট্টগ্রাম বন্দরে আসা-যাওয়া করা জাহাজের ভাড়া কয়েক গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

অর্থনীতিবিদ ড. মইনুল ইসলাম বলেন, যুদ্ধের প্রভাব পড়বে পুরো দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে। তেলের দামের সঙ্গে বিদ্যুতের সম্পর্ক আছে, বিদ্যুতের সঙ্গে কৃষকের উৎপাদন খরচ যুক্ত। সংঘাত দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে রূপ নিলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়বে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল আলম জুয়েল বলেন, হরমুজ প্রণালিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে কৃষক, শিল্পকারখানা ও গণপরিবহন সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জাহাজ পরিচালন ব্যয় কয়েক গুণ বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে বাজারে।

ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম চট্টগ্রামের সভাপতি এস এম আবু তৈয়ব বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে কারখানা পরিচালনার খরচ বাড়বে। জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে রপ্তানিতে বড় ধাক্কা আসবে। আগে লোহিত সাগর সংকটে কেপ তাব গুড হোপ ঘুরে পণ্য পাঠাতে খরচ এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছিল এবং সময় লেগেছিল দুই থেকে তিন সপ্তাহ বেশি। হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন বন্ধ হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি খায়রুল আলম সুজন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বাংলাদেশের যাদেশের রপ্তানি বাড়ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব নতুন বাজার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংঘাত দীর্ঘ হলে সেই বাজারেও অনিশ্চয়তা তৈরি হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লে সরকারকে দুটি বিকল্পের মুখোমুখি হতে হবে; ভর্তুকি বাড়ানো অথবা খুচরা মূল্য সমন্বয় করা। ভর্তুকি বাড়ালে বাজেট ঘাটতি ও ঋণচাপ বাড়বে। মূল্য সমন্বয় করলে পরিবহন, কৃষি ও শিল্প খাতে ব্যয় বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে ভোক্তা পর্যায়ে।

রিজার্ভে চাপ

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি আমদানি বিল বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে নতুন চাপ তৈরি হবে। ইউক্রেন ও গাজা যুদ্ধের পর দুই বছরে দেশের রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০ বিলিয়নের নিচে নেমে এসেছিল। একই পরিস্থিতি পুনরাবৃত্তি হলে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা নতুন সরকারকে বাড়তি চাপে ফেলবে।

এলএনজি আমদানি ঝুঁকিতে

গ্যাস সংকটে নাকাল অবস্থা, আমদানি করেও সামাল দেওয়া যাচ্ছে না ঘাটতি। এরপর এলএনজি আমদানি ব্যাহত হলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করতে পারে। সংঘাত বিস্তৃত হলে এলএনজি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। স্পট মার্কেটে এলএনজি গ্যাসের দাম বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং শিল্প খাতে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। সামনে গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিতে পারে।
খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলএনজি আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পরিধি বাড়ানো এবং বিকল্প উৎস, যেমন- আফ্রিকা বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি কৌশলগত মজুত সক্ষমতা বাড়ানোও জরুরি।

বর্তমানে দেশীয় উৎস থেকে আসে দৈনিক ১৭১ কোটি ঘনফুট আর আমদানি করা এলএনজি থেকে পাওয়া যায় ৮৫ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস।
বাংলাদেশ কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, তাৎক্ষণিক স্বস্তি থাকলেও আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। বিকল্প সরবরাহ পথ সক্রিয় রাখা, দীর্ঘমেয়াদি মূল্যচুক্তি জোরদার করা, কৌশলগত মজুত বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

প্রথম আলো

‘ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, রাজধানী তেহরানসহ ইরানজুড়ে তীব্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। গতকাল শনিবার সকালে ২০০ যুদ্ধবিমান দিয়ে ইরানের ৫০০ স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। এতে দুই শতাধিক মানুষ নিহত ও কয়েক শ মানুষ আহত হয়েছেন। জবাবে ইসরায়েলসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি এ হামলায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গতকাল সকালে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কেঁপে ওঠে তেহরান। ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা হয়। রাজধানীতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বাসভবনের চত্বরেও হামলা হয়। তবে হামলায় তিনি হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে জানা যায়নি। হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ ও বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক অভিযান সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র ও আঞ্চলিক একটি সূত্র বিষয়টি জানিয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলা চালানোর পেছনে তিনটি লক্ষ্যের কথা বলেছেন। প্রথমত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, আসন্ন হুমকি নির্মূল করা। দ্বিতীয়ত, ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও নৌবাহিনীকে ধ্বংস করা। তৃতীয়ত, ইরানে শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তন।

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৪টিতে হামলা হয়েছে। নিহত হয়েছেন ২০১ জন আর আহত হয়েছেন অন্তত ৭৪৭ জন। এর মধ্যে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৮৫ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ৬০ শিক্ষার্থী। ইরানের সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, হামলার সময় স্কুলটিতে ১৭০ শিক্ষার্থী ছিল। সেখানে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেছেন, গতকালের হামলায় ইরানের শাসকগোষ্ঠীর বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সদস্য নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ইরান সরকারের সদস্যরা সমবেত হয়েছিলেন, এমন তিনটি জায়গায় একই সময় হামলা চালানো হয়। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা কখন এক জায়গায় হবেন, কয়েক মাস ধরে সংগ্রহ করা এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই জায়গাগুলোতে হামলা চালানো হয়। কাকে কাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হবে, সেই তালিকা তৈরিতে একসঙ্গে কাজ করেছে ইসরায়েল ও মার্কিন সেনাবাহিনী।

ইসরায়েলের কান টেলিভিশন দেশটির সরকারি একটি সূত্রের বরাতে জানায়, হামলায় ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাসহ সর্বোচ্চ নেতা খামেনি ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, খামেনি ও পেজেশকিয়ান ‘নিরাপদে’ আছেন, ‘সুস্থ’ আছেন। স্যাটেলাইট চিত্রে তেহরানে খামেনির কার্যালয়–বাসবভন চত্বরে কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবিসি নিউজে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি যত দূর জানেন, তাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা জীবিত আছেন।

ইরান ঘিরে কয়েক সপ্তাহ ধরেই উত্তেজনা চলছিল। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরানের ওপর চাপ তৈরি করে আসা যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল সামরিক সমাবেশ ঘটায়। মোতায়েন করে বিমানবাহী রণতরি। একই সঙ্গে ইসরায়েলে যুদ্ধবিমান পাঠায় দেশটি। এর মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতার আলোচনা সংকট নিরসনের আশা জাগালেও তা হয়নি। দুই দিন আগে বৃহস্পতিবার তেমন কোনো অগ্রগতি ছাড়াই জেনেভায় সেই আলোচনা শেষ হয়। এরপর গতকাল ইরানে ইসরায়েলকে নিয়ে যৌথভাবে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র।

সংঘাত শুরু হওয়ার পর গতকাল অন্তত আটটি দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে। দেশগুলো হলো ইরান, ইসরায়েল, ইরাক, জর্ডান, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ ছাড়া সিরিয়াও ইসরায়েল সীমান্তঘেঁষা দক্ষিণাঞ্চলে আকাশসীমার একটি অংশ ১২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

এর বাইরে অনেক বিমান সংস্থা মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে। গতকাল ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধের বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হলে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধাবস্থা: বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ শুরুর কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে বৈশ্বিকভাবে পণ্য পরিবহণব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে সব ধরনের জ্বালানি উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে গেছে।

এসবের নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পড়তে পারে। জ্বালানি উপকরণ আমদানি-রপ্তানির অন্যতম পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। তখন বৈশ্বিক অর্থনীতির পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরানের পরমাণু ও ইউরোনিয়াম কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলমান থাকা অবস্থায়ই শনিবার দেশটিতে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইরান থেকে ইসরাইলে হামলা চালানোর পাশাপাশি কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। ভূরাজনৈতিক এই উত্তেজনা ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। রাশিয়া, চীনসহ অনেক দেশ সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশেই রাশিয়া ও চীনের স্বার্থ রয়েছে। ইরানে নতুন হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যার নেতিবাচক প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিসহ বাংলাদেশেও পড়তে পারে।
সূত্র জানায়, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্যপথ নিয়ন্ত্রণে সুযোগ রয়েছে ইরানের। বিশ্বে সমুদ্রপথে যে পরিমাণ জ্বালানি উপকরণ পরিবহণ করা হয়, এর বড় অংশই সম্পন্ন হয় এই প্রণালির মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশ গড়ে প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও রূপান্তরিত প্রকৃতিক গ্যাস আমদানি করে এই প্রণালি দিয়ে। এটি হচ্ছে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে পারস্য উপসাগরে যাওয়ার একমাত্র রুট। এর একপাশে ইরান, অন্যপাশে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ফলে ইরানকে ঘিরে যে কোনো সংঘাত বড় আকার ধারণ করলে দেশটি কৌশলগত কারণে এই প্রণালি বন্ধ বা এর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে। এতে বিশ্ব বাণিজ্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এর প্রভাবে জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য জ্বালানি উপকরণের দাম বেড়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত প্রতি ব্যারেল জ্বালনি তেলের দাম বেড়ে ৭৪ ডলারে উঠেছে। গত সপ্তাহের শেষদিকে ছিল ৬৬ ডলার। এর দাম আরও বাড়তে পারে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে অন্যান্য জ্বালানি উপকরণের দামও বাড়তে পারে।
এর পাশাপাশি বাড়তে পারে জাহাজ ভাড়াও। কারণ, জাহাজ চলাচলে আন্তর্জাতিকভাবে কোথাও বাধার পরিবেশ সৃষ্টি হলে কোম্পানিগুলো ‘ভূরাজনৈতিক প্রিমিয়াম’ আরোপ করে। এ খাতে ব্যারেলপ্রতি ব্যয় ২০ থেকে ৪০ ডলার বাড়তে পারে। ফলে জাহাজে পণ্য পরিবহণ ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। এর প্রভাবে পণ্যের উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যাবে। ফলে বাজারে বাড়বে পণ্যের দাম। এতে মূল্যস্ফীতির হার ফের বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, যুদ্ধ মানেই ধ্বংস। আর যে কোনো ধ্বংসই মানবতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। বৈশ্বিক অর্থনীতির খনিজ উপাদানের জন্য প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। জ্বালানি তেল, খনিজসম্পদ, প্রাকৃতিক গ্যাসে এ অঞ্চলটি অন্যতম সমৃৃদ্ধ। এ অঞ্চলে যুদ্ধ বেধে গেলে জ্বালানি উপকরণের দাম বাড়বে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ বা জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে পণ্য পরিবহণ বাধাগ্রস্ত হবে। তখন বৈশ্বিক বাণিজ্যে আরও বড় বিপর্যয় নেমে আসবে। এর প্রভাবে পণ্যের উৎপাদন কমার পাশাপাশি দাম বেড়ে যাবে। ফলে নিম্নমুখী মূল্যস্ফীতির হারও ঊর্ধ্বমুখী হবে। পাশাপাশি বাড়বে বৈশ্বিক ঋণের সুদের হার। যা এখন নিম্নমুখী।
কালের কণ্ঠ
‘মার্কিন-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ: মধ্যপ্রাচ্য রণক্ষেত্র, ইরানে নিহত ২০১’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, শান্ত মধ্যপ্রাচ্য নিমেষেই রণক্ষেত্র। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সামরিক সংঘাত শুরুর মধ্যেই ইরানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। আরব সাগর, লোহিত সাগর, ভূমধ্যসাগর, ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি থেকে ইরানে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানও মরিয়া হয়ে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র এ হামলাকে স্থাপনাকেন্দ্রিক দাবি করলেও ইরানের বেসামরিক এলাকায়ও হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরানে দুই শতাধিক নিহত: হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা জানা না গেলেও রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে—নিহত ২০১, আহত ৭৪৭। ইরানের মেহের নিউজকে দেশটির রেড ক্রিসেন্টের মুখপাত্র বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৩২টি প্রদেশের মধ্যে ২৪টিতেই হামলা চালিয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলের মিনাব শহরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় ৮৫ জন শিক্ষার্থীর শিক্ষার্থীর নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরানের আধাসরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়, হরমোজগান প্রদেশের ওই শহরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় নিহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে। ওই স্কুলে হামলার সময় ১৭০ জন শিক্ষার্থী ছিল। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। এ ছাড়া লামের্দ শহরের একটি জিমনেসিয়ামে হামলায় ১৫ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ইরানের ফারস নিউজ এজেন্সি এ কথা জানিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিচ্ছে ইরান: ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, কৌশলগত গুরুত্বের কথা চিন্তা করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি ইরানের দক্ষিণে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মাঝখানে অবস্থিত একটি নৌচলাচলের পথ। ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলের এমন আকস্মিক হামলার নিন্দা জানিয়েছে চীন, রাশিয়া, স্পেনসহ বিভিন্ন দেশ। ইরানের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করতে হবে বলে মন্তব্য করে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহবানও জানিয়েছে বেইজিং।
ইত্তেফাক
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর ‘যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি থেকে সরে আসার সুপারিশ সিপিডির’। প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্পাদিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিকে ‘অত্যন্ত বৈষম্যমূলক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এবং অবিলম্বে এ চুক্তি থেকে সরে আসার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল শনিবার সিপিডি কার্যালয়ে ‘নতুন সরকারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত :১৮০ দিন এবং তারপর’ শীর্ষক এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়াও, ব্রিফিংয়ে ব্যবসা খাতে দুর্নীতি প্রতিরোধে তিন ন্যায়পাল নিয়োগ, কর বৈষম্য কমাতে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন এবং রাজস্ব আদায় বাড়াতে কর-অবকাশ সুবিধা থেকে বেরিয়ে আসার সুপারিশ করেছে সিপিডি।
সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে রাজস্ব আহরণ সবচেয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এই মুহূর্তে এশিয়ার মধ্যে দেশের রাজস্ব জিডিপি অনুপাত সবচেয়ে কম। বিএনপি সরকারের রাজস্ব টার্গেটে ৪ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশে নেওয়ার পরিকল্পনা এবং ২০৩৫ সাল নাগাদ এর লক্ষ্যমাত্রা ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করাকে বাস্তবসম্মত বলেছেন তিনি। তবে তাদের পরিকল্পনায় সম্পদ করের ক্ষেত্রে ন্যায্যতা বজায় রাখার বিষয়টি মাথায় রাখতে বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘১৮০ দিনের পরিকল্পনায় আমাদের প্রস্তাব থাকবে—কর বৈষম্য কমাতে এনবিআরের উচিত হবে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি করা। যারা নিয়মিত কর অব্যাহতি, কর ফাঁকি, কর ছাড়, কর আহরণ ইত্যাদি বিষয় নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে। অন্যদিকে ভ্যাট রেটের ক্ষেত্রে আটটি স্তর রয়েছে, সেটাকে কমিয়ে ধীরে ধীরে তিন স্তরে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ থাকবে। দীর্ঘ মেয়াদে ভ্যাট হার দুই স্তরে এবং পরবর্তী সময়ে সিঙ্গেল হারে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ছোট উদ্যোক্তার জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্রদানের পাশাপাশি কর ফাঁকি ও অর্থ পাচার রোধে আন্তর্জাতিক ট্যাক্স ফাঁকি রোধে যে গাইডলাইন রয়েছে সে বিষয়ে ‍চুক্তি করা দরকার। এনবিআরের ভেতরে একজন স্বাধীন পরিচালক রাখা প্রয়োজন। এনবিআরকে ভাগ করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে যে দুটি ভাগ হয়েছে, দীর্ঘ মেয়াদে সেগুলোর বাস্তবায়ন হওয়াটাও জরুরি।’
ব্যবসা পরিবেশ সম্পর্কে মূল প্রবন্ধে ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘ব্যবসার পরিবেশের ক্ষেত্রে দুর্নীতি সবচেয়ে বড় বাধা। দুর্নীতি রোধে যত দ্রুত সম্ভব ব্যবসাজনিত ন্যায়পাল, ব্যাংক ন্যায়পাল ও কর ন্যায়পাল নিয়োগ দেওয়া উচিত।’

নয়া দিগন্ত

‘ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলা’-এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, কয়েক সপ্তাহের উত্তেজনা আর হুমকির পর অবশেষে ইরানে যৌথভাবে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। ঘটনার পর গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বড় ধরনের যুদ্ধের অভিযান’ শুরু হয়েছে। এর আগে, গতকাল শনিবার ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরান ও অন্যান্য কয়েকটি বড় শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র ইসরাইল।
এ দিকে যৌথ হামলার জবাবে ইসরাইলসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েক দেশে মার্কিন স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তেহরান। বাহরাইন, কাতার, কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর দিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। অন্তত হাফ ডজন আরব দেশে তেহরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী স্বীকার করেছে যে ইরানের দিক থেকে তাদের দেশে ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল আক্রমণ চালানো হয়।
সকালে দক্ষিণ ইরানে মেয়েদের একটি স্কুলে ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৮০ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে। দেশটির মিনাব কাউন্টির গভর্নর বলেছেন, সকালে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। এছাড়া আরো একটি স্কুলেও হামলা চালানো হয়।
ইরানের ৩১ প্রদেশের ২০টিতেই হামলা : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২০টিরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এই তথ্য জানিয়েছে। সোসাইটির মুখপাত্র মোজতবা খালেদি বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত ২০টিরও বেশি প্রদেশ হামলার শিকার হয়েছে’। রাতে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত দুইশতাধিক ইরানী নিহত এবং ৮ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানে ইসরাইলি ও মার্কিন হামলার সাথে জড়িত সব স্থাপনা এখন ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্রবাহিনীর ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে’ পরিণত হবে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, ইরানের সশস্ত্রবাহিনী সেসব স্থানকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে, যেখান থেকে মার্কিন ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। একই সাথে ইরানের প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত সব স্থাপনাও আমাদের লক্ষ্যবস্তুর অন্তর্ভুক্ত।
ইসরাইলে ফের ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়ল ইরান : হামলার জবাবে দখলদার ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ফের ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছে ইরান। টানা কয়েক দফা হামলার পর বাংলাদেশ সময় শনিবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে আবারো মিসাইল ছোড়ে ইরানি বাহিনী। ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরান কিছুক্ষণ আগে আরেক দফা মিসাইল ছুড়েছে। এসব মিসাইল প্রতিহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে তারা। সংবাদ মাধ্যমে রাতের খবরে জানা গেছে, তেহরান ইসরাইলের বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।

বণিক বার্তা

দৈনিক বণিক বার্তার প্রথম পাতার খবর ‘জ্বালানিতে বড় সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের জ্বালানি চাহিদার ৬৫-৭০ শতাংশ আমদানিনির্ভর। এর বেশির ভাগ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)। এসব পণ্যের বড় অংশ আমদানি হয় মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় দেশ কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান থেকে। বিশেষ করে দেশে এলএনজি ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের একক সরবরাহ উৎস কাতার, সৌদি আরব ও আরব আমিরাত। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের তীব্রতা বাড়লে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে তা বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনাসহ আর্থিক খাতে বড় সংকট তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
গত রাতে এ প্রতিবেদন লেখার সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌ মিশন অ্যাসপিডসের একজন কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ডদের কাছ থেকে জাহাজগুলো ভিএইচএফ ট্রান্সমিশন (রেডিও বার্তা) পাচ্ছে যে কোনো জাহাজকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে দেয়া হবে না। তবে এ কর্মকর্তা রয়টার্সকে এটাও বলেছেন যে ইরান সরকারের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো এমন কোনো নির্দেশ জারি করা হয়নি। উল্লেখ্য, এ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি পথ, যা উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোকে ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করে।
দেশে প্রতি বছর জ্বালানি তেলের চাহিদার ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আসে মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশ থেকে। এছাড়া এলএনজির ৫৫ শতাংশ আসে কাতার ও ওমান থেকে। আর এলপিজি আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার প্রায় পুরোটাই মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক।
ইরানের বিভিন্ন শহরে গতকাল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র একযোগে আঘাত হেনেছে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, সৌদি আরব ও বাহরাইনে। এ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এ অঞ্চলের কয়েকটি দেশ আকাশপথ বন্ধ ঘোষণা করেছে। ইরান যদি আনুষ্ঠানিকভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তাহলে অপরিশোধিত তেলের দাম ৯৫ থেকে ১১০ ডলারে উঠে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট অনেকগুলো আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা।
বাংলাদেশে অপরিশোধিত-পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির বড় উৎস বা বাজার মধ্যপ্রাচ্য। বিশেষত সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কুয়েত থেকে জ্বালানি তেল কেনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সেই সঙ্গে কাতার ও ওমান থেকে দীর্ঘমেয়াদে এলএনজি আমদানি করে বাংলাদেশ। এছাড়া এলপিজির প্রধান উৎসদেশও মধ্যপ্রাচ্যে। এ তিন ধরনের জ্বালানি বাংলাদেশে জলপথে আমদানি করতে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করা হয়। আমদানিনির্ভর জ্বালানিতে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি ও আঞ্চলিক পরিসরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর তেমনটা হলে এ অঞ্চলের সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। সে রকমটা ঘটলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় বড় সংকট তৈরি হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে শিল্প উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় দেশগুলোয় যদি যুদ্ধ অব্যাহত থাকে, তাহলে তেলের দাম বেড়ে যাবে। এ ঘটনা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহও ব্যাহত হতে পারে। আর তা দেশে গুরুতর গ্যাস সংকট সৃষ্টি করতে পারে।’
দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার ও ওমান থেকে এলএনজি কেনে বাংলাদেশ। প্রতি বছর যে পরিমাণ এলএনজি কার্গো দেশে আসে তার প্রায় ৪০ শতাংশ আমদানি হয় কাতার থেকে। ১৫ বছর মেয়াদি এ এলএনজি চুক্তির বার্ষিক আমদানির পরিমাণ ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন টন থেকে আড়াই মিলিয়ন টন পর্যন্ত। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতময় পরিস্থিতিতে দেশে গ্যাস সরবরাহের বিষয়টি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। তবে সংঘাত আরো বেড়ে গেলে আমদানিতে ব্যবহৃত সমুদ্রপথ অনিরাপদ বা বন্ধ হয়ে গেলে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক কিছু জানাতে চাননি পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা।
জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হয়েছে। কাতার থেকে আমরা এলএনজি আমদানি করি। যে পথ দিয়ে এলএনজি আসে, সেই পথ বন্ধ হয়ে গেলে তা আমাদের জন্য দুশ্চিন্তা বাড়াবে। পরিস্থিতি কোনদিকে যাচ্ছে আমরা সার্বক্ষণিক তার ওপর নজর রাখছি। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও বিষয়টি নজরে রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’
আজকের পত্রিকা
‘ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনেই হামলা’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে একযোগে হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই হামলার অন্যতম লক্ষ্যবস্তু ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। গতকাল শনিবার তাঁর রাষ্ট্রীয় বাসভবন লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া ইরানের প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও খামেনির কার্যালয়ের আশপাশে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এবারের মার্কিন হামলার অন্যতম লক্ষ্য হলো ইরানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা।
খামেনি এখন কোথায় আছেন, সেটা জানা যাচ্ছে না। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, খামেনি এখন তেহরানে নেই। নিরাপদ স্থানে তাঁকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
১৯৮৯ সাল থেকে খামেনি সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। দেশটির সামরিক, বিচার বিভাগসহ সরকারের অধিকাংশ ক্ষমতাই তাঁর হাতে। ইরানের আধ্যাত্মিক নেতাও তিনি। তাঁর মতে, ইরানের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো যুক্তরাষ্ট্র। এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ইসরায়েল।
ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বাহিনী সরাসরি খামেনির নিয়ন্ত্রণে। এর একটি হলো দেশটির আধা সামরিক বাহিনী বাসিজ। এই বাহিনীর লাখো সদস্য আছে দেশজুড়ে। ইরানের অভ্যন্তরে কী হয় এবং পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করা হয়, সেটা এই বাসিজকে দিয়ে নিয়ন্ত্রিত। আরেকটি বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এই বাহিনী দেশের বাইরেও বিভিন্ন অভিযানে অংশ নেয়। অর্থাৎ ইরানে একটি সরকার থাকলেও সামরিক সব ক্ষমতা আসলে খামেনির হাতে। তাই ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মাথাব্যথার কারণ তিনি।
খামেনিকে নিয়ে ইসরায়েলের অবস্থান একেবারে স্পষ্ট। এ প্রসঙ্গে গত বছরের জুনে ইরানে হামলার শুরু আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছিলেন, খামেনির মতো একজন স্বৈরশাসক, যিনি কিনা ইসরায়েলের মতো দেশকে ধ্বংস করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁর অস্তিত্ব থাকতে পারেন না।
ঠিক একই মাসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তাঁরা খামেনিকে হত্যার পরিকল্পনা থেকে সরে আসছেন না। তাঁর মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে যে সংঘাত চলছে এর ইতি ঘটতে পারে খামেনিকে হত্যার মধ্য দিয়ে।
ইরানের শাসনব্যবস্থা, খামেনিকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ই কথা বলেছেন ট্রাম্প। চলতি মাসের শুরুর দিকে এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে, তাতে ইরানের শাসকগোষ্ঠীর ভীত হওয়ার মতো যথেষ্ট কারণ রয়েছে।


দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘ট্রাম্প যুদ্ধের ঘূর্ণিপাকে ইরান’। খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চায় মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম সামরিক শক্তি ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণের সামর্থ্য কাটছাঁট করতে। দেশটি এতে রাজি না হলে প্রয়োজনে সামরিক হামলা চালানো হবে, এমন হুমকি দেওয়া হয় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে। যুদ্ধবিমানবাহী কয়েকটি জাহাজসহ ব্যাপক সামরিক সমাবেশ ঘটানো হয় ইরানের চারপাশে বিভিন্ন সাগরে ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশে দেশে মার্কিন ঘাঁটিগুলোয়। প্রকাশ্য ও গোপন আলোচনায় মার্কিন দাবি নাকচ হওয়ায় এবার ইরানের শাসক বদলাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গতকাল একযোগে দেশটিতে সামরিক হামলা শুরু করেছে। ইরানও বসে নেই। ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা মিসাইল হামলা চালিয়েছে দেশটি।

হঠাৎ এ যুদ্ধে টালমাটাল হয়ে পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘ভয়াবহ সামরিক অভিযান’ শুরু করেছে। ইরানে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ২০১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৭৪৭ জন। এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, রেড ক্রিসেন্টের বরাতে ইরানি গণমাধ্যম আরও জানিয়েছে যে, ইরানের ২৪টি প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে।

জবাবে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে ইরান। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। শুধু ইসরায়েল নয়, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ছয়টি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলার এ তথ্য নিশ্চিত করে।

রয়টার্স বলছে, হামলা শুরুর পরই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সম্পূর্ণ অক্ষত ও নিরাপদ আছেন।

ইসরায়েলি হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। হামলায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাসিরজাদেহ ছাড়াও রেভল্যুশনারি গার্ডের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ হরমোজগানের মিনাব ও জাস্কে পৃথক হামলায় অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছে বলে জানায় দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স। এর মধ্যে মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়েই নিহত হয়েছে ৫৩ জন শিক্ষার্থী। হামলার আগে সেখানে ১৭০ শিক্ষার্থী অবস্থান করছিল। তাই নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলা আশঙ্কা করা হচ্ছে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন