বান্দরবানের দুর্গম উপজেলা থানচি সদরের হাজারো মানুষের নিরাপদ পানির সংকট দূর করতে নেয়া প্রায় ৮ কোটি টাকার পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প তিন বছরেও চালু করতে পারেনি বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নেয়া প্রকল্পটির নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো পানি সরবরাহ শুরু না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। থানচি সদরের পাহাড়চূড়ায় প্রায় ৩০ শতক জায়গা জুড়ে প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্প এলাকার চারপাশ জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পানি সরবরাহের আশ্বাস দেয়া হলেও বাস্তবে প্রকল্পের কার্যক্রম দেখে তারা হতাশ। বিভিন্ন স্থানে পানি সরবরাহ লাইন বসানোর জন্য খনন করা জায়গা মাটি দিয়ে যথাযথভাবে সংস্কার করা হয়নি। কোথাও কোথাও পাইপও পড়ে রয়েছে। ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও এর সুফল পাচ্ছেন না দুর্গম এলাকার মানুষ।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা, দায়িত্বশীলদের সমন্বয়হীনতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে। বিশেষ করে সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মজিবুর রহমানের সময়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। এসব অভিযোগের কারণে প্রকল্পের কাজ থমকে গেছে বলেও দাবি তাদের। এদিকে প্রকল্পের ঠিকাদার দাবি করেন, তাদের পক্ষ থেকে কাজ শেষ করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন প্রকল্প চালু না হওয়ার কারণ তাদের জানা নেই।
ঠিকাদার বলেন, আমরা আমাদের কাজ শেষ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছি। প্রকল্প চালু করার দায়িত্ব এখন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের। কেন এতদিনেও চালু হয়নি, সেটি আমাদের জানা নেই। তবে ভূমি অধিগ্রহণসহ কিছু জটিলতার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত প্রকল্পটি চালুর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তারা। বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন, থানচি পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। কিছু বিষয় নিয়ে জটিলতা ছিল। আমরা আশা করছি, চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই প্রকল্পটি চালু করে এলাকাবাসীর পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারবো। স্থানীয়দের প্রশ্ন, কোটি টাকা বরাদ্দের পরও যদি একটি পানি সরবরাহ প্রকল্প বছরের পর বছর পড়ে থাকে, তাহলে এর দায়ভার কার এ প্রশ্নও উঠেছে।
