ঝুঁকিতে হাতির খাদ্যভাণ্ডার

ঝুঁকিতে হাতির খাদ্যভাণ্ডার

ফন্ট সাইজ:

কক্সবাজারের উখিয়ায় মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব কমাতে বনবিভাগের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, চারা রোপণ ও এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের (ইআরটি) মাধ্যমে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও বনাঞ্চল থেকে হাতির অন্যতম প্রধান খাদ্য বাঁশকোড়ল সংগ্রহ করে উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত কুতুপালং, বালুখালী, থাইনখালী বাজারে বাঁশকোড়ল বিক্রি হচ্ছে বেশি। এতে বন্যহাতির খাদ্য ও আবাসস্থল আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন পরিবেশবাদীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বনাঞ্চল থেকে ব্যাপকভাবে বাঁশকোড়ল সংগ্রহ করে উখিয়ার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ বন্যহাতির খাদ্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় বন বিভাগের নজরদারি কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, বন্যহাতি লোকালয়ে প্রবেশের পর ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি হাতির খাদ্য ও আবাসস্থল সুরক্ষায় উৎসস্থলেই কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। একই সঙ্গে হাতির চলাচলের করিডোর পুনরুদ্ধার, বন থেকে বাঁশকোড়লসহ গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য সংগ্রহ নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ বন উজাড় বন্ধ করা না গেলে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হতে পারে। উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা (সহকারী বন সংরক্ষক) মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, উখিয়া রেঞ্জে হাতির আবাসস্থল নিরাপদ রাখতে মনিটরিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। রেঞ্জ এলাকায় তিনটি হাতি করিডোর ছিল, তবে আর্মি ক্যাম্প ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প স্থাপনের কারণে সেগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসনে স্থানীয়দের নিয়ে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। ইআরটি টিমের সহযোগিতায় নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। হাতির আবাসস্থলে অবৈধ স্থাপনা ও অবৈধ চাষাবাদ বন্ধের চেষ্টা চলছে।

পাশাপাশি হাতির খাদ্য উপযোগী বাগান গড়ে তুলতে ডুমুর, গাব, চালতা ও উড়ি আমের চারা রোপণ করা হচ্ছে। সমপ্রতি উখিয়া রেঞ্জের বনায়ন কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মানুষ, হাতি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী সবকিছুই পরিবেশের অংশ। হাতি তার নিজস্ব পথ দিয়ে চলাচল করে। সেখানে মানুষের বসতি গড়ে ওঠায় সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের মাধ্যমে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসনে কাজ চলছে। পরিকল্পনাগুলো দৃশ্যমান হলে সংঘর্ষ কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক খাদ্যভাণ্ডার থেকে বাঁশকোড়ল সংগ্রহ ও প্রকাশ্যে বিক্রি বন্ধে কার্যকর নজরদারি এবং হাতির খাদ্য ও আবাসস্থল সুরক্ষায় আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা।