ঝুঁকিপূর্ণ রেলক্রসিং

ঝুঁকিপূর্ণ রেলক্রসিং

ফন্ট সাইজ:

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ রেলক্রসিং দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। লেভেল ক্রসিংয়ের দুই পাশের দু’টি গেটের মধ্যে একটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শায়েস্তাগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথের সঙ্গে রেলপথের সংযোগস্থল হওয়ায় এই ক্রসিং দিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ততা থাকে। বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড় যানবাহনের পাশাপাশি সিএনজি অটোরিকশা, টমটম, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, পণ্যবাহী যানবাহন ও পথচারীরা নিয়মিত এই ক্রসিং ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে এ রেলপথ দিয়ে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে আন্তঃনগর ও অন্যান্য ট্রেন চলাচল করে। কিন্তু লেভেল ক্রসিংয়ের একটি গেট দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় ট্রেন আসা-যাওয়ার সময় যানবাহন ও পথচারী নিয়ন্ত্রণে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে গেটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিকমতো কার্যকর না থাকায় চালক ও পথচারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়।

অসতর্কতার কারণে কোনো যানবাহন রেললাইনের উপর উঠে গেলে মুহূর্তের মধ্যেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, একটি রেলক্রসিংয়ে গেটের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে ট্রেন চলাচলের সময় সড়কপথের যানবাহন ও পথচারীদের রেললাইনে প্রবেশ ঠেকানো। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে একটি গেট অচল থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শুধু গেট মেরামত করলেই হবে না, সেটি নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় রাখাও জরুরি। এদিকে ট্রেন চলাচলের সময় অনেক চালক ও পথচারী ঝুঁকি নিয়ে রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ব্যস্ত সময়ে কেউ কেউ দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য সতর্কতা উপেক্ষা করে রেললাইন পার হন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। গেটের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, সংকেত ব্যবস্থা ও দৃশ্যমান সতর্কবার্তা স্থাপন করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই রেল ক্রসিংয়ে সবসময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন হবে।

তাই ক্রসিং এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, নিরাপত্তা সংকেত এবং দায়িত্বশীল গেটম্যানের উপস্থিতি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। শায়েস্তাগঞ্জবাসীর মতে, দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেয়ার চেয়ে দুর্ঘটনার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা না করে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, বর্তমান ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানি ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। তাই কোনো দুর্ঘটনা ঘটার অপেক্ষা না করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট রেল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।