বগুড়ায় ১৪ বছরেও স্থানান্তর হয়নি কাঁচাবাজার

বগুড়ায় ১৪ বছরেও স্থানান্তর হয়নি কাঁচাবাজার

ফন্ট সাইজ:

উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র এবং সদ্য ঘোষিত বগুড়া সিটি করপোরেশন এলাকা প্রতিদিন সকালে পরিণত হয় তীব্র যানজটের নগরীতে। বগুড়া শহরকে যানজটমুক্ত করতে ও নাগরিক সুবিধা বাড়াতে সিটি প্রশাসন নানা পদক্ষেপের কথা বললেও বাস্তব চিত্র একেবারেই ভিন্ন। রাস্তার ধার থেকে ভ্রাম্যমাণ দোকান বা ভ্যানগাড়ি সরাতে একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলেও তার স্থায়িত্ব থাকছে সাকুল্যে মাত্র কয়েক ঘণ্টা। অভিযানকারীরা স্থান ত্যাগ করার পর পরই পরিস্থিতি আবার পূর্বের জায়গায় ফিরে যায়।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও স্থানীয়দের মতে, শহরের প্রধান সড়কগুলোর এই তীব্র যানজটের অন্যতম মূল কারণ রাজাবাজার, ফলপট্টি এবং আশপাশের পাইকারি বাজারগুলো। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এসব বাজারে প্রতিদিন ভোরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক ও ভ্যান এসে থামে। ফলে সাতমাথা, ফতেহআলী মোড় এবং স্টেশন রোডের মতো ব্যস্ততম ভিআইপি সড়কগুলোতে ভোর থেকেই স্বাভাবিক চলাচলের কোনো উপায় থাকে না। স্কুলগামী শিক্ষার্থী এবং অফিসগামী মানুষকে পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ।

শহরের যানজট নিরসন ও আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ২০০৭ সালের ২৫শে জানুয়ারি তৎকালীন স্থানীয় সরকার বিভাগ বগুড়া পৌরসভার অনুকূলে শহরের দ্বিতীয় বাইপাস সংলগ্ন মাটিডালি বারবকপুর মৌজায় একটি নতুন কেন্দ্রীয় কাঁচাবাজার স্থাপনের প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়। উদ্দেশ্য ছিল শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে পাইকারি বাজার স্থানান্তর করা। কিন্তু প্রশাসনিক অনুমোদনের পর প্রায় ১৪ বছর পার হয়ে গেলেও জমি অধিগ্রহণ কিংবা বাজার স্থানান্তরের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। প্রকল্পটির ফাইল বছরের পর বছর কেবল ধামাচাপা পড়ে রয়েছে।

সরকারি উদ্যোগ থমকে থাকায় ২০২১ সালে রাজাবাজারের আড়তদার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নিজস্ব অর্থায়নে শহরকে যানজটমুক্ত করার উদ্যোগ নেন। তারা শহরের দ্বিতীয় বাইপাস সংলগ্ন শাখারিয়া এলাকায় নতুন আড়ত গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য ১৪০ শতাংশ জমি মাসে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ভাড়ায় চুক্তি করা হয়। ৪৬টি দোকান নির্মাণের জন্য জমির মালিক শাহাদৎ হোসেন সাজুকে দেয়া হয় ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা জামানত এবং অতিরিক্ত ফাঁকা জায়গার জন্য আরও ৭ লাখ টাকা প্রদান করা হয়।

ব্যবসায়ীরা জানান, চুক্তির নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব কাজ শেষ না হলেও পরবর্তীতে সেখানে ৪১টি দোকান প্রস্তুত করা হয়। কিন্তু নতুন এই আড়ত চালুর চূড়ান্ত মুহূর্তে আবারো প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে এবং মাসিক বিপুল পরিমাণ অর্থ ভাড়া দিয়েও আমলাতন্ত্রের বেড়াজালে পড়ে আড়তটি চালু করতে পারেননি ব্যবসায়ীরা।

বর্তমানে রাজাবাজার ও ফলপট্টির সিংহভাগ ব্যবসায়ী এক হয়ে শহরের বাইরে সমন্বিত পাইকারি বাজার বাস্তবায়নের জোরালো দাবি তুলছেন। তারা ইতিমধ্যে বিষয়টি লিখিতভাবে সিটি প্রশাসন ও জেলা পরিষদ প্রশাসককে জানিয়েছেন। রাজাবাজারের পাইকারি আড়তদার আব্দুর রহমান রুনু (দয়াল ভাণ্ডার), ফল আমদানিকারক মুকুল হোসেন, রাজাবাজারের ব্যবসায়ী ইকবাল (আলমগীর অ্যান্ড ব্রাদার্স) আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “বগুড়া সিটির ঘোষণার পর যানজটের কারণে আমরা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। রাজাবাজারের ঘরের যে ভাড়া, তা তোলাই এখন কঠিন। সাধারণ ও নিরীহ ব্যবসায়ীরা চান বাজার বাইরে যাক, যাতে আমরা সুখেশান্তিতে ব্যবসা করতে পারি। কিন্তু কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী একই জায়গায় সকালে পাইকারি ও দুপুরে খুচরা ব্যবসা করে দুই-তিনবার সুবিধা নেয় বলে তারা স্থানান্তর চায় না।”

বগুড়া সিটি প্রশাসক এমআর ইসলাম স্বাধীন জানান, আপাতত কাঁচাবাজার নতুন করে স্থানান্তরের বা তৈরি করার কোনো পরিকল্পনা তাদের হাতে নেই।