বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ইউসুফের বিরুদ্ধে নিয়োগের সময় জমা দেয়া এইচএসসি সনদে জালিয়াতির অভিযোগের প্রমাণ মিললেও এক বছরেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযোগ তদন্তে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের যাচাইয়ে তার জমা দেয়া সনদের তথ্যের সঙ্গে বোর্ডের সংরক্ষিত রেকর্ডের অমিল পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, সনদ জালিয়াতির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে প্রশাসন। একই ধরনের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার পরও শিক্ষক ইউসুফের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় বিষয়টিকে প্রশাসনের দ্বৈত নীতি বা ‘দ্বিচারিতা’ হিসেবে দেখছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কেউ কেউ। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মো. ইউসুফের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ যাচাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তা রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়।
যাচাই শেষে বোর্ড গত বছরের ২৪শে জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর প্রেরিত চিঠিতে দেখ যায়, ইউসুফ যে এইচএসসি সনদ জমা দিয়েছেন, তার তথ্য বোর্ডের সংরক্ষিত রেকর্ডের সঙ্গে মিলছে না। জমা দেয়া সনদে তার জিপিএ ৩.০১ উল্লেখ থাকলেও বোর্ডের রেকর্ড অনুযায়ী তার প্রকৃত জিপিএ ২.৯০। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর লিখিত অভিযোগে এসব অনিয়ম ও সনদ জালিয়াতির বিষয় উল্লেখ করা হয়। তার অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে সনদ ও ফলাফল যাচাই করা হলে ইউসুফের জমা দেয়া ফলাফলের সঙ্গে বোর্ডের সংরক্ষিত রেকর্ডের অমিলের প্রমাণ পাওয়া যায়।
তবে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার পরও বিষয়টি নিষ্পত্তি না করে নতুন করে উচ্চতর কমিটি গঠন করায় তদন্ত প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, সনদ জালিয়াতির অভিযোগে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলেও ইউসুফের ক্ষেত্রে এক বছরেও কেন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এ বিষয়ে উচ্চতর তদন্ত কমিটির সদস্য কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহ. রাশেদুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
অথবা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সদস্য সচিবের (রেজিস্ট্রার) সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। তার কাছে ডকুমেন্ট সংরক্ষিত থাকে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, এটা তো তদন্তাধীন আছে। রিপোর্ট জমা হলে সিন্ডিকেটে যাবে। তারপর সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নেবে।
