গাজীপুরের শ্রীপুরে বাবার কেনা জমিতে মায়ের মরদেহ দাফনে বাধা দেয়ায় ১৯ ঘণ্টা পর সরকারি খাসজমিতে মরদেহ দাফন করেছে ছেলে ও স্বজনরা। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের আক্তাপাড়া গ্রামে। বুধবার সকাল ১০টার দিকে বাড়ির পাশেই মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা হয়। নিহতের ছেলে সুনীল চন্দ্র বর্মণ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত শ্রী মেনোকা (৬০) শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের আক্তাপাড়া গ্রামের শ্রী গোপালের স্ত্রী। মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতেই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। নিহতের ছেলে সুনীল চন্দ্র বর্মণ বলেন, প্রায় ৪-৫ বছর আগে সফির উদ্দিনের কাছ থেকে এক শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরে জমি সাব-কবলা দলিল করে দেয়নি। গতকাল তার মা মারা গেলে ক্রয়কৃত জমিতে দাফন করতে গেলে সফির উদ্দিন বাধা দেয়।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে সমাধানে বসলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সুরাহা করতে পারেননি। পরে ১৯ ঘণ্টা পর দাফন করে ছেলে ও স্বজনেরা। তিনি আরও জানান, নিহত মেনোকা তার সৎ মা। তার বাবা শ্রী গোপাল প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় মাওনা ইউনিয়নের আক্তাপাড়া গ্রামে দ্বিতীয় স্ত্রী মেনোকা ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করে আসছেন। প্রায় এক বছর আগে স্থানীয় সফির উদ্দিনের কাছ থেকে এক শতাংশ জমি কেনেন তিনি। মিউটেশন (খারিজ) জটিলতার কারণে জমিটি রেজিস্ট্রি করে নিতে পারেননি। পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে জমির মূল্য পরিশোধ করা হয়েছিল।
তার বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে বিক্রেতা সফির উদ্দিন বিষয়টি অস্বীকার করছেন এবং তার মায়ের মরদেহ তার বাবার কেনা জমিতে দাফনে বাধা দেয়। মেনোকার ভাই নিধারণ বলেন, বাবা মারা যাওয়ার আগে এক শতাংশ জমি কিনেছিলেন। বাবার কেনা জমিতে মায়ের মরদহে দাফনের জন্য খনন করতে গেলে সফির উদ্দিন, তার স্ত্রী ও সন্তানেরা লাঠি নিয়ে এসে বাধা দেয়। তবে সফির জমি বিক্রির বিষয়টিও অস্বীকার করছেন। অভিযোগের বিষয়ে সফির বলেন, আমার জমিতে আদিবাসী (মান্দাই) মহিলাকে দাফন করতে দেবো না।
তাদের কাছে আমি কোনো জমি বিক্রি করিনি এবং কোনো টাকাপয়সাও নেইনি। স্থানীয় বিএনপি নেতা মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বলেন, সফিরকে আমরা অনেক বুঝিয়েও কোনো সমাধান করতে পারিনি এবং নিহত ওই আদিবাসী বৃদ্ধাকে দাফন করা সম্ভব হয়নি। শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে ওই ব্যক্তিকে বুঝানো হলেও তিনি দাফন করতে দেননি। পরে নিহতের স্বজনেরা সরকারি খাস জমিতে তাকে দাফন করেন।
