জুলাই গণহত্যা, গুম ও খুনের বিচারের দাবিতে সোচ্চার থাকবে এনসিপি

ফন্ট সাইজ:

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ফ্যাসিবাদ বিলোপে গণহত্যার বিচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণহত্যা, গুম ও খুনের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার থাকবে এনসিপি। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমণ্ডির আবাহনী মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সড়ক পরিবহন, রেল ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব। এ ছাড়াও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত জুলাইযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, এক বছরে এনসিপি নানা অভিজ্ঞতার মধ্যদিয়ে এগিয়েছে। শুধু এনসিপি নয়, গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে পুরো বাংলাদেশই বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে গেছে। সেই সময়কে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে যে নেতৃত্ব প্রয়োজন, এনসিপি তার অবস্থান থেকে সেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, আরেকটি মূল প্রতিপাদ্য হলো- ‘বিপ্লব, বিকল্প ও বিনির্মাণ।’ বিপ্লবের শক্তি থেকেই বিকল্প নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে, যা বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চায়। এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য- ‘দেশ যাবে নতুন পথে, ফিরবে না আর ফ্যাসিবাদে।’
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, বিশ্বাস করি দেশ ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে বেরিয়ে এসেছে। এখন লক্ষ্য গণতন্ত্রকে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকর করার আন্দোলন অব্যাহত রাখা।
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ এনসিপি’র পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। এ সময় তিনি ২০১৩ সালের হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এসব ঘটনার প্রেক্ষাপট থেকেই ২০২৫ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি এনসিপি’র জন্ম। গণ-অভ্যুত্থানই তাদের শেকড় এবং সেখান থেকেই যাত্রা শুরু।
আগামী কর্মসূচি প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, সামনে মূল লক্ষ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন। দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের প্রত্যাশা জানিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানাই। তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করে রাজনৈতিক অর্জন বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। নাহিদ ইসলাম বলেন, সর্বশেষ নির্বাচনে ছয়টি আসনে বিজয় অর্জন করলেও তিনি এতে সন্তুষ্ট নন। ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে এনসিপি। পাশাপাশি সংস্কার পরিষদ গঠন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা আইন ও অধ্যাদেশসমূহ সংসদে অনুমোদনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষে নির্বাচনে সমর্থন দেয়া সাধারণ ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।
জুলাই আন্দোলন থেকে নির্বাচন পর্যন্ত এনসিপি’র ভূমিকা নিয়ে ৩ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডের একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এতে জুলাই আন্দোলন থেকে রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা, সংস্কার কমিশনে ভূমিকা এবং জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণসহ দলটির পথচলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, গণতন্ত্রের মাঠে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান দেশের রাজনীতিকে আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ করবে।
তিনি বলেন, এনসিপি যখন রাজনৈতিক দল হিসেবে যাত্রা শুরু করে, সেদিন ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকতে না পারলেও টেলিভিশনে অনুষ্ঠানটি দেখেছেন এবং তা অনুপ্রাণিত করেছে। তরুণদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে মর্যাদাবান করবে এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনী সমঝোতার মাধ্যমে জাতীয় সংসদে এনসিপি’র ছয়টি আসন পাওয়া দলটির জন্য বড় অর্জন। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা বাড়তে পারে। রাজনীতিতে সাফল্য রাতারাতি আসে না; উত্থান-পতন মেনে নিয়েই এগোতে হয়।
জাতীয় সংসদ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে সংসদই হবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে তর্ক-বিতর্ক ও বহুমতের মধ্যদিয়ে জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্য গড়ে তোলা হবে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো সংসদেই আলোচিত হবে এবং সেখান থেকেই জাতির জন্য দিকনির্দেশনা আসবে।
ইফতার আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন- কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু প্রমুখ।
এ ছাড়াও এনসিপি’র সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, প্রধান সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, প্রধান সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সিনিয়র যুগ্ম প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসুদসহ কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন জেলার নেতারা অংশ নেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন