টপ অর্ডার ব্যাটারদের ব্যর্থতার ভিড়ে প্রতিরোধ গড়েন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও আহরার আমিন পিয়ান। এই দুজনের লড়াইয়ের পর শেষদিকে ব্যাট হাতে ঝড় তুলেন শেখ পারভেজ জীবন। পরে বল হাতেও ঘূর্ণি জাদু দেখান তিনি। জীবনের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে আজ প্রথম ওয়ানডেতে মালয়েশিয়াকে ১৫৩ রানে হারালো বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২৯০ রান করে স্বাগতিকরা। জবাবে ১৩৭ রানে গুটিয়ে যায় মালয়েশিয়া। ব্যাট হাতে ১৮ বলে ৩৫ রানের পাশাপাশি বল হাতে মাত্র ১৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা জীবন। এ ছাড়া আবদুল্লাহর ব্যাট থেকে আসে ৯৪ রান, পিয়ান করেন ৬১ রান। তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। একই মাঠে শুক্রবার মাঠে গড়াবে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের ভালো হয়নি। চার ওভারের মধ্যে ড্রেসিংরুমে ফিরে যান জাওয়াদ আবরার (৫), ইকবাল হোসেন (০) ও রিজান হোসেন (০)। মাত্র ১১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। অধিনায়ক কালাম সিদ্দিকি এলিনকে নিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন শাহরিয়ার সাকিব। তবে ২৬ বলে ২১ রান করে ফিরে যান তিনি। এরপর পঞ্চম উইকেটে আবদুল্লাহ ও এলিন মিলে গড়ে তোলেন ৪৯ রানের জুটি। ভুল বোঝাবুঝিতে এলিন রানআউট হলে ভাঙে এই জুটি। অধিনায়কের ব্যাট থেকে আসে ৫৬ বলে ৩৪ রান। এক পর্যায়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৫ ওভারে ৫ উইকেটে ১০৮ রান। সেখান থেকে বাকি ২৫ ওভারে মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে তারা যোগ করে ১৯২ রান। দলকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন মূলত আবদুল্লাহ ও পিয়ান। ১০৯ বলে ১০৩ রানের জুটি গড়েন এই দুই তরুণ বাঁহাতি ব্যাটার। ৪ চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা মেরে ৬২ বলে ৬১ রান করে ফেরেন পিয়ান।
অন্যদিকে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগালেও পূর্ণতা দিতে পারেননি আবদুল্লাহ। বোল্ড হয়ে ফেরার আগে ৭ চার ও ৪ ছক্কায় ৯৪ রানের ইনিংস খেলেন কিপার-ব্যাটার। শেষ দিকে দায়িত্ব নেন জীবন। ২ চারের সঙ্গে ৩টি ছক্কা মেরে ১৮ বলে করেন ৩৫ রান। মালয়েশিয়ার পক্ষে ৫৩ রানে ৪ উইকেট নেন আরিফ উল্লাহ। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই তেমন সুবিধা করতে পারেনি সফরকারীরা। ষষ্ঠ ওভারে প্রথম উইকেট নেন মাহফুজুর রহমান রাব্বি। এরপর মালয়েশিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে ধসিয়ে দেন অফ স্পিনার জীবন ও লেগ স্পিনার স্বাধীন ইসলাম। দলীয় পঞ্চাশের আগে চার উইকেট হারিয়ে ফেলার পর ৭৬ রানে অষ্টম ব্যাটার ড্রেসিংরুমে ফিরে যান। নবম উইকেটে সৈয়দ জুনায়েদ খানকে নিয়ে ৪৬ রানের জুটি গড়েন আহমেদ জুবাইদি জুলকিফলে। তাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে জুটি ভাঙেন জীবন। তার ব্যাট থেকে আসে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৬৬ বলে ৪২ রান। এরপর জুনায়েদকে বোল্ড করে বাংলাদেশের অফ স্পিনার ফাইফার পূর্ণ করেন। ৭.৫ ওভারে ১ মেডেনসহ ১৬ রানে ৫ উইকেট নেন জীবন। স্বাধীনের শিকার ৯ ওভারে ৩ মেডেনসহ ৩২ রানে ২ উইকেট। বাঁহাতি পেসার মারুফ মৃধা নেন ২০ রানে ২ উইকেট।
