মেসির মাঠে ফেরা নিয়ে যা জানা গেল

মেসির মাঠে ফেরা নিয়ে যা জানা গেল

ফন্ট সাইজ:

বাবাকে হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার রোসারিওতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন ইন্টার মায়ামি অধিনায়ক। মায়ামির হয়ে মেসি কবে মাঠে ফিরবেন তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো জানাননি ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

গত শনিবার রোসারিওর একটি হাসপাতালে ৬৮ বছর বয়সে মারা যান হোর্হে মেসি। খবর পাওয়ার পর বিমানে চড়ে আর্জেন্টিনায় ছুটে যান মেসি। রোসারিওর উপকণ্ঠে এল প্রাদো দে পেরেস সমাধিক্ষেত্রে একেবারে ঘরোয়া পরিবেশে সম্পন্ন হয় বাবার শেষকৃত্য। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানে ব্যক্তিগত এক স্মরণসভায়ও অংশ নেন তিনি।

শেষকৃত্যের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেননি মেসি। জানা গেছে, রোসারিও থেকে প্রায় ৪৪ কিলোমিটার দূরে ফুনেসের কেন্টাকি এলাকায় নিজের বাড়িতেই স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও তিন সন্তান থিয়াগো, মাতেও ও সিরোকে নিয়ে আরও কিছুদিন থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ব্যক্তিগত জেট বিমান মায়ামিতে ফিরে গেলেও মেসি নিজে সান্তা ফে প্রদেশ ছাড়েননি। মায়ামিতে ফেরার বিষয়টি পুরোপুরি তার নিজের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলেই জানাচ্ছে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম। হোর্হে মেসি শুধু বাবাই ছিলেন না, ছেলের ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ছিলেন প্রথম উপদেষ্টা ও এজেন্ট।

নিওয়েলস ওল্ড বয়েজের যুব দল থেকে শুরু করে বার্সেলোনায় পাড়ি জমানো পর্যন্ত প্রতিটি সিদ্ধান্তে ছেলের পাশে ছিলেন তিনি। রোসারিওর ইস্পাত প্রতিষ্ঠান আসিন্দারে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ছেলের প্রথম দিকের ফুটবল খরচও তিনিই সামলাতেন। এদিকে মেসির বাবার মৃত্যুতে ইন্টার মায়ামির ড্রেসিংরুম শোকাহত। মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে ক্লাবের ডিফেন্ডার ফাকুন্দো মুরা বলেন, ‘যা ঘটেছে, তাতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। এই কঠিন সময়ে দূর থেকেই আমরা লিওর পাশে আছি। সে কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, আমরা বুঝতে পারছি। আমরা চাই সে জানুক, আমরা তাকে সমর্থন করছি এবং সবসময় তার পাশে আছি।’ মুরা বলেন, ‘একজন ব্যক্তি হিসেবে, সতীর্থ হিসেবে, একটি দল ও একটি ক্লাব হিসেবে আমরা যা ঘটেছে তাতে খুবই দুঃখিত। যখনই সে ফিরে আসার জন্য প্রস্তুত হবে, আমরা এখানে থাকব এবং সামনে যা কিছু আসবে, সবকিছুতে তাকে সমর্থন করে যাবো।’ কোচ গিয়ের্মো হয়োসও স্বীকার করেছেন, ঘটনাটি পুরো দলকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘লিওকে নিয়ে আমরা জানি কী ঘটেছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আমাদের জন্য গভীর বেদনার বিষয়। আমরা সবাই এর প্রভাব অনুভব করেছি।’

মেসির ফেরার সময় নিয়ে কোচ বলেন, ‘এটি খুব কঠিন। অনেক সময় এমন পরিস্থিতিতে বলার মতো কোনো শব্দই থাকে না। এত কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেলে নিজেকে সামলে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে জীবনে এমন কিছু অভিজ্ঞতার মুখোমুখি আমাদের সবাইকেই হতে হয়। ব্যথাটা এত তীব্র যে কোনোভাবেই এর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়া যায় না।’ রোববার মায়ামির নিজেদের মাঠ ন্যু স্টেডিয়ামে হোর্হে মেসির স্মরণে ম্যাচ শুরুর আগে পালন করা হয় এক মিনিট নীরবতা। স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনে ভেসে ওঠে তার নাম। কালো বাহুবন্ধনী পরে মাঠে নামেন মায়ামির খেলোয়াড়েরা। দশম মিনিটে মেসির জার্সি নম্বর অনুযায়ী গ্যালারি থেকে ভেসে আসে সমর্থকদের করতালি আর ‘ফুয়ের্সা লিও’ লেখা ব্যানার।