দক্ষিণ কোরিয়ার সর্বোচ্চ ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলো ‘কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন’ (কেএফএ)। সংস্থাটি ম্যাচের আগে ও পরে বিদেশি রেফারিদের জন্য যৌনসেবার ব্যবস্থা করতে হাজার হাজার ডলার খরচ করতো। বিশ্বকাপ ও অলিম্পিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইভেন্টে এমনটা করেন তারা বলে গনমাধ্যমে উঠে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংস্থাটি দেশবাসীর কাছে প্রকাশ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ২০১৬ সালে কেএফএ-এর দুর্নীতি তদন্ত করে এই বিশেষ প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করে। তবে দীর্ঘ এক দশক গোপন থাকার পর সম্প্রতি দেশটির গণমাধ্যম যেটিবিসি প্রকাশ করে। তদন্তে দেখা যায়, ২০১১ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে অন্তত আটটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে আসা বিদেশি রেফারি ও কর্মকর্তাদের জন্য বিভিন্ন মেসেজ পার্লারে ‘যৌন বিনোদনের’ ব্যবস্থা করে কেএফএ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ওমানের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে পরদিন ভোরে চারজন বিদেশি রেফারিকে একটি মেসেজ পার্লারে নিয়ে যাওয়া হয়। যার পেছনে কেএফএ খরচ করে ৭ লাখ ৬০ হাজার কোরীয় ওন। পরবর্তীতে কর্মচারীরা প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেডিট কার্ড থেকে এই খরচের ভুয়া হিসাব জমা দেয় এবং দাবি করে যে ম্যাচ পরবর্তী মদ্যপানের জন্য এই অর্থ ব্যয় হয়েছে। এক বছরের মধ্যে কেএফএ বিদেশি রেফারিদের জন্য প্রায় ৫৬ লাখ ওন (প্রায় ৩,৯৫০ ডলার) খরচ করে। চীনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তিন কর্মকর্তার জন্যও একই রকম সুবিধা দেয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া এতে জাপানি রেফারিদের নাম উঠে আসায় জাপান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। সম্প্রতি ২০২৪ সালের পর দলগত ব্যর্থতা এবং কোচ নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল ভক্তদের তীব্র ক্ষোভের মুখেই নতুন করে এই যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রকাশ্যে এল।
