রাজধানীর পল্লবী থানা এলাকায় বিএনপি কর্মী আলমগীর হোসেন (৪৫)কে গুলি করে হত্যাচেষ্টা মামলায় মো. রুবেল ওরফে ল্যাংড়া রুবেলসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি রুবেল। গ্রেপ্তার অন্য চার ব্যক্তি হলো- বাপ্পা ওরফে শাকিল, হামিদুর ওরফে মাখন, পারভেজ ও রাব্বি। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) মিরপুর বিভাগ এই পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করে।
ডিবি’র মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে বলেন, সোমবার দিবাগত রাতে সাভার, গাজীপুর ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, দু’টি গুলি, দু’টি ম্যাগাজিন, ঘটনার সময় ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কারসহ দু’টি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের কাছ থেকে এক হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। গুলির ঘটনার পর এই আসামিরা ঢাকার বাইরে পালিয়ে যায়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে ৭ই আগস্ট বিকালে আলমগীর মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে আলমগীর ও এক পথচারী নারী আহত হন। আলমগীরের মাথা ও পিঠের দিকে তিনটি গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়। আলমগীর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২৩ নম্বর বিএনপি’র সদস্য।
ঘটনার পর গুলিবিদ্ধ আলমগীরের স্ত্রী রিনা আক্তার পরদিন ৮ই আগস্ট বাদী হয়ে পল্লবী থানায় রুবেল ওরফে ল্যাংড়া রুবেল, পাপ্পু ওরফে পাপ্পাসহ অজ্ঞাত ৩ থেকে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এজাহারে গুলিবিদ্ধ আলমগীরের স্ত্রী রিনা আক্তার বলেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে একটি প্রাইভেট কারে করে রুবেল, পাপ্পুসহ কয়েকজন সেখানে আসে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই রুবেল পিস্তল দিয়ে আলমগীরের মাথা লক্ষ্য করে গুলি করে। এজাহারে তিনি আরও বলেন, গুলিটি আলমগীরের মাথার ডান পাশ ভেদ করে বেরিয়ে যায়।
গুলির আঘাতে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তাকে লক্ষ্য করে পেটে ও পিঠে আরও দুই রাউন্ড গুলি করা হয় বলে অভিযোগ করেন। এ সময় একটি গুলি পথচারী জোসনা নামে এক পথচারী নারীর পায়ে লাগে। পরে হামলাকারীরা আশপাশের লোকজনকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে প্রাইভেটকারে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
