খণ্ডিত হাত-পা উদ্ধার, পরিবারের হাল ধরতে ঢাকা এসেছিলেন ওবায়দুল্লাহ

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর পল্টন থানাধীন বায়তুল মোকাররম মসজিদের পাশ থেকে দুইটি কাটা হাত এবং স্কাউট ভবনের পাশ থেকে একটি কাটা পা উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত ২টার দিকে পা এবং গতকাল সকালে কাটা দুই হাত উদ্ধার করে পুলিশ। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওবায়দুল্লাহ নামে এক ব্যক্তির দেহের অংশ এগুলো। তার বাড়ি নরসিংদী শিবপুর উপজেলার সাধারচর গ্রামে। কৃষক বাবাকে স্বস্তি দিতে ও পরিবারের হাল ধরতেই ঢাকায় এক চিকৎসকের চেম্বারে কাজ নেন ওবায়দুল্লাহ। পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল খান বলেন, বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ও উত্তর গেটের মাঝামাঝি এলাকায় রাস্তায় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দুটি হাত পাওয়া যায়। এছাড়া স্কাউট ভবনের সামনের রাস্তা থেকে উদ্ধার করা হয় একটি বিচ্ছিন্ন পা। দেহের অংশ বিশেষ উদ্ধারের পর তা ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল (ঢামেক) কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দেহের বাকি অংশ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ওসি বলেন, আমরা সিআইডির মাধ্যমে ওই খণ্ডিত হাতের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের পর তার পরিচয় নিশ্চিত হয়েছি। খণ্ডিত দেহাংশগুলো ওবায়দুল্লাহ নামে এক ব্যক্তির। পরে তার বাড়ি নরসিংদীর শিবপুরে খবর দেয়া হয়।
বিষয়টি জানাতে ওবায়দুল্লাহর বাড়ি যাওয়া নরংিদীর শিবপুর থানার এসআই মো. আবদুল্লাহ বলেন, ঢাকা থেকে যোগাযোগ করার পর থানা থেকে আমাকেই পাঠানো হয় ওবায়দুল্লাহর বাড়িতে। ওবায়দুল্লাহর পরিবারের সদস্যরা আমার কাছ থেকেই ঘটনাটি জানতে পারেন। তার আগে পরিবারের লোকেরা এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। এসআই বলেন, ওবায়দুল্লাহর বাড়িতে তার মা-বাবা, এক ভাই ও এক বোন থাকে। ভাই-বোনের মধ্যে ওবায়দুল্লাহই সকলের বড়। তার বাবা কৃষিকাজ করেন। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, অভাবের সংসারে হাল ধরতেই ওবায়দুল্লাহ ঢাকায় এক চিকিৎসকের অধীনে চাকরি নিয়েছিলেন। মেস বাসায় ভাড়া থাকতেন। কাজ শেষে মাসে যা ইনকাম করতেন তা পাঠিয়ে দিতেন বাড়িতে। সর্বশেষ সদ্য শেষ হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে বাড়ি গিয়েছিলেন ওবায়দুল্লাহ। ভোট প্রদান শেষে গত ১৩ই ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ফেরেন তিনি। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। এরই মধ্যে তার খণ্ডিত হাত ও পা উদ্ধার করা হয়েছে। এই খবর শুনে পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়েছেন বলেও জানান এই পুলিশ সদস্যরা। তিনি বলেন, ওবায়দুল্লাহর পরিবারের সদস্যদের ঢাকায় গিয়ে পল্টন থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন