মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ছোট করার চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামায়াতে ইসলামীর ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি থেকে নয়াপল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয় পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমার পরিচিতি বাংলাদেশি, এটা ’৭১-এর অর্জন। আমরা তাদের উত্তরসূরি, যারা সীমান্তে যুদ্ধ করেছে। এখন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ছোট করার চেষ্টা কারা করছে? যারা সেদিন স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে। এদের বীরত্বের ইতিহাস নাই, শুধু আছে দালালীর ইতিহাস। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কৃপা পাওয়ার জন্য জামায়াতে ইসলামী সব সময় চেষ্টা করে। ’৮৬ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে নির্বাচনে গেছে। ২০০৮ সালের পাতানো নির্বাচনে হুমকি দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচন করার জন্য বাধ্য করেছে। বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, জামায়াত জোরেশোরে বলেছে, পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলবে। যারা আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে, যে ভারতে প্রতিদিন মুসলমানদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এক কোটির মতো মুসলমানকে তাড়িয়ে দেবেন, যারা ইসরাইলকে তাদের পিতৃভূমি বলে, তাদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী আঁতাত করতে চায়!
জামায়াতে ইসলামীর প্রধানের বাসভবনে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনীর প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, সেখানে ‘সর্বশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা’র কোনো ছবি নেই। সেখানে ৭ই মার্চের শেখ মুজিবের (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) ভাষণের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াতের ছাত্র সংগঠনের দাঁড়িপাল্লা আঁকার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, ’৭১-কে হালকা করে দেখিয়েছে। এগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, একাত্তরের চেতনা আমাদের বুকের মধ্যে ছিল বলেই আমাদের সন্তানেরা ’২৪-এ শেখ হাসিনার মতো ফ্যাসিস্টকে তাড়িয়ে দিয়েছে। রিজভী আরও বলেন, আজকে খুবই চক্রান্তমূলকভাবে কোনটা বড় কোনটা ছোট এটা যাচাই করার চেষ্টা করছেন। এটাতে কোনো লাভ হবে না।
এই জাতি স্বাধীনতা রক্ষা করতে জানে। এ সময় জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল ইসলাম, সহসভাপতি জাহেদুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
