স্থগিত হয়ে যাওয়া ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট সিরিজ আগামী সেপ্টেম্বরে মাঠে গড়াতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে দুই দেশ। সিরিজ মাঠে গড়াতে আলোচনা হচ্ছে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে। এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য জানান। দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে বৈরিতা কমে বরফ গলতে শুরু করলেও রাজনৈতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ ও ভারতের দূরত্ব আগের মতোই রয়ে গেছে। দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ দেয়াকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে ক্রিকেটীয় কূটনীতিতেও। এর মধ্যে সিরিজ হওয়া নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে দুই দেশ। ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, বিষয়টি এখন মন্ত্রী পর্যায়ে দেখা হচ্ছে এবং দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যেও এ নিয়ে কথাবার্তা চলছে।
এ প্রসঙ্গে আমিনুল হক বলেন, ‘এটি (ভারত ও বাংলাদেশের সিরিজ) মন্ত্রী পর্যায়ের কাজ করা হচ্ছে। ক্রিকেট বিশ্বকাপকে ঘিরে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, আমরা দ্রুত সেটির সমাধান করতে চাই। আশা করছি, সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় খুব শিগগিরই বিষয়টির সমাধান হবে।’ ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর থেকেই ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার সেই সম্পর্ক উন্নতি করতে পারেনি। উল্টো মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার পর দুই বোর্ডের মধ্যকার দূরত্ব আরও বেড়ে যায়। নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতে বিশ্বকাপ খেলেনি বাংলাদেশ। যা দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কে দূরত্ব সৃষ্টি করে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সরকারের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। ক্রিকেটারদের মতামতও গুরুত্ব পায়নি সেসময়।
সবমিলিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে একরকম বাধ্যই হয়েছিল বিসিবি। তবে নতুন সরকার পুরনো তিক্ততা ভুলে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু গত বুধবার নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন এবং এরপর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ২০২৪ সালেই সিরিজটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, তবে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তখন তা স্থগিত করা হয়েছিল। বিসিবি’র বছরের শুরুতে ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮শে সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ভারতের। সূচি অনুযায়ী, তিনটি ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে ১, ৩ ও ৬ই সেপ্টেম্বর, আর তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হবে ৯, ১২ ও ১৩ই সেপ্টেম্বর। ওয়ানডে সিরিজটি হওয়ার কথা ঢাকায়। আর টি-টোয়েন্টি সিরিজ হবে চট্টগ্রামে।
‘খেপ’ খেলা নিয়ে ফুটবলারদের সতর্ক
সরকার থেকে নিয়মিত ক্রীড়া ভাতা ও জাতীয় দলের জার্সিতে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাওয়ার পরও একাধিক জাতীয় দলের ফুটবলার বিভিন্ন এলাকায় ‘খেপ’ খেলছেন। টাঙ্গাইল ও ঝিনাইদহে দু’টি স্থানীয় টুর্নামেন্টে শেখ মোরসালিন, রাকিব হোসেনসহ কয়েকজন ফুটবলারকে খেলতে দেখা গেছে। সেটি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের চোখ এড়ায়নি। পেশাগত স্বীকৃতি হিসেবে সরকার মাসিক ভাতা দেয়ার পরও খেলোয়াড়দের খেপ খেলতে যাওয়া কতোটা সমীচীন সে নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রতিমন্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে বাফুফে সভাপতির সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিত দেন আমিনুল। তিনি বলেন, ‘আমি ব্যস্ততার কারণে এখন পর্যন্ত আমাদের বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে কথা বলতে পারিনি, তবে আমি দ্রুতই তার সঙ্গে হয়তোবা দুই-একদিনের ভেতরে কথা বলবো যে যেই খেলোয়াড়রা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে খেপ খেলেছে, সেই বিষয়টি নজরে এনে তাদের সতর্ক করা- আমরা প্রথম অবস্থায় সতর্ক করতে চাই, তারপর আমরা হয়তোবা ব্যবস্থা নেয়ার চিন্তা করবো।’
