দিনাজপুর-১

আওয়ামী লীগের দুর্গ দখলে মরিয়া বিএনপি ও জামায়াত

ফন্ট সাইজ:

দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) নির্বাচনী আসনে প্রার্থীদের শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় মেতে উঠেছে দুই উপজেলার নেতাকর্মীরা। এই আসনে ব্যাপকসংখ্যক সংখ্যালঘু ভোটার থাকায় সব দলের দৃষ্টি তাদের দিকে। এই ভোটাররা এবার যেদিকে যাবে সেই প্রার্থীর জয় নিশ্চিত হতে পারে বলে ধারণা করছেন এলাকার সচেতন মানুষ। শেষ পর্যন্ত যদি ভোটের পরিবেশ ঠিক থাকে এবং প্রশাসন যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে তবে ভোট দিতে যাবেন বলে জানিয়েছে বেশির ভাগ সংখ্যালঘু ভোটার। এ আসনের ইউনিয়ন ১৭ ও পৌরসভা ১টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৭ হাজার ১৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮ হাজার ৯১৯ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৮ হাজার ২১২ জন। তৃতীয় লিঙ্গ ২ জন বলে নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া আসনে ১ লাখ ৫৭ হাজার সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছে বলে জানিয়েছে বীরগঞ্জ উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র দেব শর্মা। এদিকে প্রচারণায় শেষ মুহূর্তে দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত দুই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং, পথসভা, লিফলেট বিতরণ এবং বাড়ি বাড়ি গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা ও তাদের সমর্থকরা। প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে নিজেদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন এবং এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা বলছেন। তবে এলাকার উন্নয়নে এবং মানুষের সুখ-দুঃখে যারা পাশে থাকবেন তাদের নির্বাচিত করবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। স্বাধীনতার পর থেকে এই আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের কমর উদ্দিন আহম্মেদ এবং ১৯৭৯ সালে বিএনপি’র জমির উদ্দিন সরকার নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে সীমানা পরিবর্তন হলে ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের আব্দুল মালেক সরকার, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির মো. আনিসুল হক রিজু, ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের মো. আমিনুল ইসলাম, ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত সৈয়দ আহমেদ রেজা হোসেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের আব্দুর রউফ চৌধুরী নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে চারদলীয় ঐক্য জোটের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-আল-কাফি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার মৃত্যুতে ২০০৫ সালে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোরঞ্জন শীল গোপাল জয়ী হন। পরবর্তীতে মনোরঞ্জন শীল গোপাল আওয়ামী লীগে যোগদান করে ২০০৮ সালে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন। এরপর ধারাবাহিকভাবে তিনি এমপি থাকলেও ২০২৪ সালের ৭ই জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ জাকারিয়া জাকার কাছে পরাজিত হন। তবে এবার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় তাদের দুর্গ দখলে নিতে চায় বিএনপি ও জামায়াত। এর আগে বিএনপি’র কোনো একক প্রার্থী না থাকায় এই আসনে বিএনপি’র তেমন একটা প্রভাব ছিল না। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে একেবারে চিত্র আলাদা। অপরদিকে জামায়াতের প্রার্থী আগে থেকেই দলীয়ভাবে মনোনীত করায় প্রচারণার ক্ষেত্রে তারা বেশি এগিয়ে রয়েছেন। বিগত দিনে জোটগত নির্বাচন করলেও এবারে ভোটের মাঠে দুই দলই কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। এই আসনে বিএনপি’র হয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মো. মনজুরুল ইসলাম মনজু। অপরদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিযোগিতা করছেন ঢাকা মহানগর উত্তরের শূরা সদস্য ও তুরাগ থানা জামায়াতের আমীর মো. মতিউর রহমান। এ ছাড়াও এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে মো. চাঁন মিঞা, জাতীয় পার্টির পক্ষে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে মো. শাহিনুর ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদ-জিওপি’র পক্ষে ট্রাক প্রতীক নিয়ে মো রিজুওয়ানুল ইসলাম এবং জাকের পার্টির পক্ষে গোলাপ ফুল প্রতীক নিয়ে রঘুনাথ চন্দ্র রায় নির্বাচনী লড়াইয়ের মাঠে রয়েছেন। এলাকার মানুষের পাশে থেকে সব ধরনের সেবা করার কারণে জয়ের ব্যাপারে সকল প্রার্থী আশাবাদী বলে জানিয়েছেন। তারা বলেন, বিগত দিনে এই এলাকার মানুষ উন্নয়নবঞ্চিত হয়েছে। নির্বাচিত হলে তারা এলাকার কাক্সিক্ষত উন্নয়নের জন্য কাজ করবেন।