সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ এবং দেশটির দেরা প্রদেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তার সাবেক প্রধান আতেব নাজিবের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির এক আদালত।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার দামেস্কের ফৌজদারি আদালত আসাদকে দেশটিতে ১৪ বছরের যুদ্ধের সময়ে নির্যাতন এবং নির্বিচারে গ্রেপ্তারের জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছেন।
বিচারক ফখর আল-দিন আল-আরিয়ান আদালতে বলেন, সাক্ষীদের দেয়া সাক্ষ্য প্রমাণ করে যে, এই অপরাধগুলোতে সাবেক সিরীয় নেতা ছিলেন “সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী” এবং তিনি এগুলো সংঘটনে সহায়তা করার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করেছেন।
অন্যদিকে নাজিব ছিলেন আসাদের আমলে একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা। দেশটির আদালত তাকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের দায়ে দণ্ডিত করেছেন।
২০২৪ সালের ডিসেম্বর বিদ্রোহীদের আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন আসাদ। এর মাধ্যমে সিরিয়ায় আসাদ পরিবারের দীর্ঘ প্রায় ৫৩ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দামেস্ক ছেড়ে মস্কো পালিয়ে যান আসাদ। এরপর গত দুই বছর ধরে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাধিক ব্যক্তি ও শিশুদের পূর্বপরিকল্পিত ও ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা, নির্যাতন, স্বেচ্ছাচারী গ্রেপ্তার এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মঙ্গলবার সিরিয়ার একজন বিচারক আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
১৯৬৫ সালে জন্মগ্রহণ করা আসাদ পিতার মৃত্যুর পর ২০০০ সালে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে পরিবারের শাসন বজায় রাখেন এবং ইরানের সমর্থনে দেশটি পরিচালনা করেন।
তবে ইরাক যুদ্ধ এবং লেবানন সংকটের সময় আসাদের শাসনামলে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ২০১১ সালে দেশটির জনগণ গণতন্ত্রের দাবিতে রাস্তায় নামেন। তবে এসব বিক্ষোভ দমনে ব্যাপকভাবে অস্ত্র ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ উঠে।
