আট দিনে ৪৫.৭৫ দিরহাম বেড়ে দুই মাসে দুবাইয়ে সোনার দাম সর্বোচ্চ

আট দিনে ৪৫.৭৫ দিরহাম বেড়ে দুই মাসে দুবাইয়ে সোনার দাম সর্বোচ্চ

ফন্ট সাইজ:

দুবাইয়ের ক্রেতাদের এখন দুই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামে সোনা কিনতে হচ্ছে। মঙ্গলবার ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রাম ৫৩১.২৫ দিরহামে পৌঁছেছে। সোমবার প্রতি গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ছিল ৫২৮.২৫ দিরহাম। মঙ্গলবার তার দাম ৩ দিরহাম বেড়েছে। একইভাবে ২২ ক্যারেট সোনার দামও ৩ দিরহাম বেড়ে ৪৮৯ থেকে ৪৯২ দিরহামে উঠেছে। মঙ্গলবারের এই দাম ২৪ ক্যারেট সোনাকে ৪ঠা জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ৯০ দিনের তথ্য অনুযায়ী, ৪ঠা জুন দাম ছিল ৫৩৮.৫০ দিরহাম। সর্বশেষ দামটি আবার ৩রা আগস্টের ৪৮৫.৫০ দিরহামের তুলনায় ৪৫.৭৫ দিরহাম বেশি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গালফ নিউজ। ২২ ক্যারেট সোনার দামও একই ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অনুসরণ করেছে। ৩ আগস্টের ৪৪৯.৫০ দিরহাম থেকে মঙ্গলবার তা বেড়ে ৪৯২ দিরহামে পৌঁছেছে। অর্থাৎ দাম বৃদ্ধি হয়েছে ৪২.৫০ দিরহাম।

জুলাইয়ের বড় একটি সময় ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ৫০০ দিরহামের নিচে থাকার পর দুবাইয়ের সোনার বাজারে সাম্প্রতিক এই উত্থান বড় ধরনের ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। ১৭ই জুলাই দাম কমে ৪৮১.৫০ দিরহামে নেমেছিল। এরপর ২২ জুলাই তা বেড়ে ৫০০.৭৫ দিরহামে ওঠে। পরে আবার কমে ৩১শে জুলাই ৪৮৫.২৫ দিরহামে দাঁড়ায়। আগস্টে দাম বাড়ার গতি আরও তীব্র হয়। ৪ঠা আগস্ট দাম ছিল ৪৯২.২৫ দিরহাম। ৫ই আগস্ট ৫১৪ দিরহাম, ৭ই আগস্ট ৫২৩.৭৫ দিরহাম, সোমবার ৫২৮.২৫ দিরহাম ও মঙ্গলবার দাম দাঁড়ায় ৫৩১.২৫ দিরহাম। তবে সাম্প্রতিক এই উত্থান সত্ত্বেও বর্তমান ২৪ ক্যারেট সোনার দাম এখনো গত ৯০ দিনের সর্বোচ্চ ৫৬৩.৭৫ দিরহামের নিচে রয়েছে। ওই দাম রেকর্ড হয়েছিল ১৪ই মে।

দুবাইয়ে সোনার দাম বৃদ্ধির পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুটির নতুন করে শক্তিশালী হয়ে ওঠাও ভূমিকা রাখছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রতি আউন্স ৪৪০০ ডলারের ওপরে উঠে দুই মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। মঙ্গলবার লেনদেনের সময় সোনার দাম সর্বোচ্চ ১ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এর আগে আগের দুই কার্যদিবসে দাম মোট ৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ১০০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজের ওপরে উঠে যাওয়ার পর সোনা কেনার আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে দাম কমলে সোনা কেনার প্রবণতা এবং চীনে সোনা-সমর্থিত এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডে অর্থপ্রবাহ বৃদ্ধিও বাজারের চাহিদাকে সমর্থন করেছে। পেপারস্টোনের গবেষণা কৌশলবিদ আহমদ আসিরি বলেন, সাম্প্রতিক উত্থানের মূল কারণ হলো বিনিয়োগকারীদের নতুন করে অর্থপ্রবাহ এবং দীর্ঘ সময় তুলনামূলক সংকীর্ণ পরিসরে ওঠানামার পর বাজারের মনোভাবের পরিবর্তন। আসিরি বলেন, সকালের লেনদেনে সোনার দাম ৪৪০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়ে ওপরে উঠেছে।

সাম্প্রতিক এই উত্থান মূলত ধাতুটির দিকে নতুন করে অর্থপ্রবাহ এবং সোনার বাজারের মনোভাবে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের কারণে হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা সোনায় তাদের বিনিয়োগের অংশ আবার বাড়াচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে। এর ফলে সোনার দাম তুলনামূলক দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে পারছে। একই সঙ্গে ভূরাজনৈতিক ঘটনাবলিও বাজারের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তুলনামূলক সংকীর্ণ দামের পরিসরে কিছু সময় কাটানোর পর সাম্প্রতিক মূল্যগত গতিবিধিতে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি নজরে পড়ছে, তা হলো অর্থপ্রবাহের শক্তি। বিনিয়োগকারীরা সোনায় তাদের বিনিয়োগের অংশ পুনর্গঠন করছেন বলে মনে হচ্ছে। ফলে দাম তুলনামূলক দ্রুত আগের অবস্থান ফিরে পাচ্ছে। আসিরি বলেন, হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা এবং বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা এখনো বাজারকে প্রভাবিত করছে। তবে সাম্প্রতিক সোনার দামের গতিপ্রকৃতি বলছে, বিনিয়োগকারীদের অর্থপ্রবাহ এখন তুলনামূলক বেশি প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, তবে সোনার দামের সাম্প্রতিক উত্থানের মাত্রা থেকে বোঝা যাচ্ছে, বর্তমানে অর্থপ্রবাহই দামের ওপর বেশি প্রভাব ফেলছে। এই পরিবর্তিত বাজার-মনোভাব যদি আরও অর্থপ্রবাহ আকর্ষণ করতে থাকে, তাহলে সোনার দাম ৪৪০০ ডলারের আশপাশে স্থিতিশীল থাকবে কি না এবং সেখান থেকে আরও ওপরে পুনরুদ্ধার করবে কি না- তা নির্ধারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে থাকতে পারে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনাও মূল্যবান ধাতুটিকে সমর্থন দিয়েছে। এর ফলে আগের দুর্বলতার পর সোনা প্রতি আউন্স ৪,০০০ ডলারের ওপরে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এখন বাজারের নজর বুধবার প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যস্ফীতির তথ্যের দিকে। এই তথ্য সুদের হার নিয়ে ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশায় প্রভাব ফেলতে পারে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল কর্মসংস্থান তথ্য প্রকাশের পর এই মূল্যস্ফীতির প্রতিবেদন আসছে। একই সময়ে ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারকরা মূল্যস্ফীতিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যের দিকে ফিরিয়ে আনতে সুদের হার আরও বাড়ানো প্রয়োজন কি না, তা মূল্যায়ন করছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন