খুলনা মহানগরীতে মধ্যরাতে দৈনিক প্রবাহ অফিসে সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিরা হামলা চালিয়েছে। এ সময় তারা ফয়সাল আহমেদ (৪৯) নামে পত্রিকার একজন স্টাফকে মারধর করে এবং সাংবাদিকদের খুঁজতে থাকে। না পেয়ে অফিসের কাঁচের দরজা ভাঙচুরের চেষ্টা করে। রোববার রাত ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে নগরীর ৩ কেডিএ এভিনিউস্থ প্রবাহ ভবনের পঞ্চম তলায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত ফয়সাল আহমেদকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে খবর পেয়ে সোমবার সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশের একাধিক টিম এবং গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ছাড়া খুলনা প্রেস ক্লাব ও মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা প্রবাহ কার্যালয় পরিদর্শন করে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সূত্রমতে, রোববার রাতে পত্রিকার কাজ শেষ করে বার্তা বিভাগের রিপোর্টাররা অফিস ত্যাগ করেন। এরপর রাতের সেকশনে পেস্টিংয়ের কাজ চলছিল। এ সময় রাত ২টার পর হঠাৎ করে কয়েকজন সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি জোরপূর্বক প্রবাহ ভবনে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় তাদের বাধা দেয়া হলে নিচ তলায় মেইন গেটের দায়িত্বরত সিকিউরিটি গার্ড মো. মুসলিমকে ধাক্কা দিয়ে গালিগালাজ করতে করতে তারা ভবনের ৫ম তলায় অবস্থিত পত্রিকা অফিসে ঢুকে অফিসের কাঁচের দরজা ভাঙার চেষ্টা করে এবং সাংবাদিকদের খুঁজতে থাকে। কিন্তু সাংবাদিকরা না থাকায় তারা পত্রিকা অফিসের পেস্টার ফয়সাল আহমেদকে বেধড়ক মারপিট করে।
এমনকি তারা যাওয়ার সময় এ বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে চলে যায়। পত্রিকার বার্তা সম্পাদক মেহেদী মাসুদ খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অফিসে রক্ষিত সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৩ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রবিউল ও সিজানের নাম জানা গেছে। অন্যজন অজ্ঞাত। তবে ঘটনার সময় প্রবাহ ভবনের গেটের বাইরে আরও ৫-৬ জন সন্ত্রাসী অপেক্ষমাণ ছিল বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পর থেকে অফিসের স্টাফ ও সাংবাদিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।
হামলার শিকার পত্রিকার পেস্টার ফয়সাল আহমেদ বলেন, তিনি অফিসে কাজ করছিলেন। এ সময় বাথরুমের জানালার গ্লাসে বাইরে থেকে একাধিক ইট মারা হয়। কিছুক্ষণ পরই অফিসের পঞ্চম তলার গেটে চিৎকারের শব্দ শুনে তিনি গেটের কাছে আসা মাত্রই কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে মারধর করা হয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদেরও খুঁজতে থাকে এবং গালিগালাজ করে। পরে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়। ঘটনাস্থল পরির্দশন করে সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, হামলাকারীরা গভীর রাতে কি উদ্দেশ্যে পত্রিকা অফিসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ অফিসে হামলা করেছেÑ তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। এ বিষয়ে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এদিকে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে খুলনা প্রেস ক্লাব সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার, খুলনা সংবাদপত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দৈনিক খুলনাঞ্চল সম্পাদক মিজানুর রহমান মিল্টন, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) খুলনার সভাপতি ও মানবজমিনের ব্যুরো প্রধান রাশিদুল ইসলামসহ স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা প্রবাহ ভবন পরিদর্শন করেন। এ সময় দৈনিক প্রবাহ সম্পাদক আশরাফুল হক, নির্বাহী সম্পাদক এনামুল হক, চিফ রিপোর্টার মোহাম্মদ নূরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
