শতভাগ জিপিএ-৫, এসএসসিতে দেশসেরা নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল

শতভাগ জিপিএ-৫, এসএসসিতে দেশসেরা নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল

ফন্ট সাইজ:

এসএসসিতে শতভাগ জিপিএ-৫ পেয়ে দেশসেরা হয়েছে নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল এন্ড হোমস। প্রতিষ্ঠানটিতে ৩৮২ শিক্ষার্থীর সবাই পেয়েছে জিপিএ-৫। সোমবার বেলা ১২টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন। এ সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল কাদির মোল্লা ও মিসেস নাছিমা মোল্লা।এর আগে ২০২২, ২০১৭, ২০১৫ ও ২০২৫ সালে শতভাগ পাসসহ শতভাগ জিপিএ-৫ পেয়ে দেশসেরা ফলাফল অর্জন করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।

গত বছর ৩২০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছিল। ২০২৪ সালে ২৯৪ জনের মধ্যে ২৯৩ জন, ২০২৩ সালে ২৭৮ জনের মধ্যে ২৭০ জন, ২০২২ সালে ২৬৬ জনের মধ্যে ২৬৬ জন, ২০২১ সালে ২৪৭ জনের মধ্যে ২৩৭ জন, ২০২০ সালে ২১৪ জনের মধ্যে ২০০ জন, ২০১৯ সালে ১৭১ জনের মধ্যে ১৬৮ জন, ২০১৮ সালে ১৩৯ জনের মধ্যে ১৩৭ জন এবং ২০১৭ সালে ১৬৪ জনের মধ্যে সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছিল।

বিজ্ঞান বিভাগের জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী মারিয়া মুনিরা বলেন, দেশের নানা প্রতিকূলতার কারণে পড়ালেখায় অনেক ব্যাঘাত ঘটেছিল। শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রমে আমরা তা কাভার করতে পেরেছি। আজকের দেশসেরা ফলাফলে আমাদের সব দুঃখ-কষ্ট মুছে যাবে।

আরেক জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী তাজরিয়ান হাসান মুন বলেন, বিদ্যালয়ের চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম, সঠিক দিকনির্দেশনা, নিয়মিত ক্লাস, বিশেষ ক্লাস, গাইড টিচারের মাধ্যমে নিয়মিত হোম ভিজিট, টিউটোরিয়াল ও মাসিক পরীক্ষার কারণেই এই ভালো ফলাফল সম্ভব হয়েছে।

নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল এন্ড হোমসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও থার্মেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লা বলেন, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বরাবরই ভালো ফলাফল করছে। এবার শতভাগ পাসসহ শতভাগ জিপিএ-৫ পেয়ে দেশসেরা ফলাফলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে। সারাদেশের সার্বিক ফলাফল বিশ্লেষণ করলে আশা করছি, আমরা দেশসেরা অবস্থানে থাকব।

তিনি বলেন, নরসিংদীর মতো মফস্বল শহরে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের অঙ্গীকার নিয়েই আমি ও আমার সহধর্মিণী নাসিমা বেগম স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। আমি সবসময় চেয়েছি সুশিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মানবসম্পদে পরিণত হোক। যাতে আমাদের সমাজে সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিত বেকার তৈরি না হয়।

আবদুল কাদির মোল্লা আরও বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চারটি স্তম্ভ—পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। আমাদের ভালো ফলাফলের মূল কারণ, আমরা একে অপরের কাছ থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হতে দিই না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন বলেন, একটি বিদ্যালয়ের ভালো ফলাফলের মূলমন্ত্র হচ্ছে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয়। আর আমাদের মূলমন্ত্র হচ্ছে আবদুল কাদির মোল্লা। চেয়ারম্যানের ইনোভেটিভ চিন্তা-চেতনা ও সময়োপযোগী সঠিক দিকনির্দেশনায় আমাদের এই ফলাফল অব্যাহত আছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এত কঠোর পরিশ্রম করেন যে ভালো ফলাফল করতে তারা বাধ্য। আমরা শুধু একাডেমিক ফলাফলে নয়, কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিতেও দেশসেরা অর্জন করে আসছি।


উল্লেখ্য, নরসিংদীতে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের অঙ্গীকার নিয়ে ২০০৮ সালে শহরের ভেলানগর এলাকায় থার্মেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লা তার ও তার স্ত্রী মিসেস নাসিমা বেগমের নামে নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল এন্ড হোমস প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে ১৭৪ জন তরুণ ও মেধাবী শিক্ষক-শিক্ষিকার সার্বিক তত্ত্বাবধানে কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যে বিদ্যালয়টি পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে স্কুলটির শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার ২০০ জন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন