ফুটবল বিশ্বে দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে জোসে মরিনহো অবশেষে স্বীকার করেছেন যে, ২০১৩ সালে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের অবসরের পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দায়িত্ব নিতে তিনি চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। তবে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলে চেলসিতে ফিরে যান এই পর্তুগিজ কোচ। নতুন এক ডকুমেন্টারি সিরিজে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন মরিনহো।
রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর তার ইউনাইটেডে যাওয়ার কথা থাকলেও চেলসির টান এড়াতে পারেননি তিনি। এ বিষয়ে নিশ্চিত করে ফার্গুসন বলেন, “এক রাতে সে (মরিনহো) আমাকে ফোন করে কেঁদে ফেলে এবং বলে- ‘অ্যালেক্স, আমি এটি নিতে পারছি না। আমি চেলসিকে কথা দিয়েছি এবং সেই কথা ফেলবো না।’ আমি তার যুক্তি বুঝতে পেরেছিলাম, তবে আমি হতাশ হয়েছিলাম।”
চেলসিতে ফিরে গিয়ে মরিনহো তার তৃতীয় প্রিমিয়ার লীগ ও লীগ কাপ জেতেন। অপরদিকে ফার্গুসনের পছন্দ ডেভিড ময়েস ইউনাইটেডের দায়িত্ব নিয়ে মাত্র ১০ মাসেই বরখাস্ত হন। পরে ২০১৬ সালে লুই ফন গালের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ওল্ড ট্রাফোর্ডে আসেন মরিনহো। সেখানে লীগ কাপ ও ইউরোপা লীগ জিতলেও ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে চাকরি হারাতে হয় তাকে।
ডকুমেন্টারিতে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ থাকার সময় ক্লাব অধিনায়ক ইকার ক্যাসিয়াস এবং সাবেক চেলসি মালিক রোমান আব্রামোভিচের সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন মরিনহো। ক্যাসিয়াসের সঙ্গে দ্বন্দ্ব নিয়ে তিনি বলেন, ‘অধিনায়ক ক্যাসিয়াসের প্রথম তিনবার আমার কাছে চাওয়ার বিষয়গুলো ছিল-জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য আরও ছুটি, ট্রাফিকের কারণে প্রশিক্ষণ সেশন এক ঘণ্টা পেছানো এবং হোটেলের বদলে সরাসরি ম্যাচডেতে স্টেডিয়ামে যাওয়া। তখন আমি বুঝতে পেরেছিলাম ওরা কতটা আবদারী।’
অন্যদিকে আব্রামোভিচ প্রসঙ্গে মরিনহো জানান, প্রথম মেয়াদে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আন্দ্রি শেভচেঙ্কোকে দলে ভেড়ান তৎকালীন চেলসি মালিক। শেভচেঙ্কোর ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আব্রামোভিচের ফুটবলের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ছিল। তবে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতেন না।’ ফুটবল এখন কেবল খেলোয়াড়, কোচ ও সমর্থকদের- এই বার্তাই যেন বারবার স্পষ্ট করেছেন ‘স্পেশাল ওয়ান’।
