দেশের পোল্ট্রি শিল্পের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ‘কাজী ফার্মস লিমিটেডের‘ নাম, লোগো ও ছবি ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার ক্রাইম ইউনিট।
গ্রেপ্তার ব্যাক্তিরা হলেন- মো. মনিরুল ইসলাম (২৫), খালেক সরকার (৩৩)। মনিরুল ইসলাম‘কে যশোর জেলার নাজির শংকরপুর এলাকা এবং খালেক সরদার‘কে পুরাতন কসবা এলাকা থেকে আটক করা হয়।
তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাবনা জেলার পুটে বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে চক্রের আরেক সদস্য আবুল বাসার পালিয়ে যায়।
তবে অভিযানে প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রয় করা গমের ভূষির নগদ ১০ লাখ ৩ হাজার টাকা, ৭৭ বস্তা গমের ভূষি, প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৭টি মোবাইল ফোন, ৫১টি সিমকার্ড, ২টি ল্যাপটপ, ১টি মোটরসাইকেল এবং স্বর্ণের গহনা উদ্ধার করা হয়েছে।
জানা যায়, গত ১৯ জুলাই চুয়াডাঙ্গার মেসার্স আর এস ইন্টারন্যাশনালের মালিক মানিক কুমার আগরওয়ালের সঙ্গে নিজেদের কাজী ফার্মসের পরিচালক পরিচয় দিয়ে যোগাযোগ করে, আবুল বাশার, মনিরুল ইসলাম ও খালেক সরকার। তারা প্রতি কেজি ৩২ টাকা দরে মোট ৭৫ মেট্রিক টন গমের ভূষি ক্রয়ের চুক্তি করে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২২ ও ২৫ জুলাই দুই দফায় ৫টি ট্রাকে করে চাহিদা অনুযায়ী গমের ভূষি সরবরাহ করা হয়।
ব্যবসায়ী আগরওয়াল বলেন, গাড়ি ভাড়া, সিকিউরিটি মানি ও ভ্যাটের অজুহাতে নগদ, মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমেও টাকা নিয়েছে প্রতারক চক্রটি। সব মিলিয়ে ৩৪ লাখ টাকা। এরপর ৩১ জুলাই আরও ৩০ হাজার টাকা ধার চাওয়ায় সন্দেহ হয়।
এরপর মেসার্স আর এস ইন্টারন্যাশনালের মালিক আগরওয়াল ‘কাজী ফার্মস লিমিটেড‘-এর যশোর কার্যালয়ে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো গমের ভূষির অর্ডার দেয়া হয়নি এবং প্রতারকরা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করেছে। এ ঘটনায় গত ৫ আগস্ট ওই ৩ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেন ব্যবসায়ী আগরওয়াল।
পুলিশ তদন্তে জানা যায়, প্রতারকরা কাজী নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের সামনের রাস্তা থেকে পণ্য গ্রহণ করে। ভুয়া পরিচয়, নকল ছবি ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে তারা মোট ৩৪ লাখ ১৯ হাজার ২৫৬ টাকা আত্মসাৎ করে।
পুলিশ জানায়, পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং আত্মসাৎ করা অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
