বিপাকে বাংলাদেশ যুব ফুটবল দলের কোচ

বেতনের দুশ্চিন্তা ও নিরাপত্তাহীনতা

বিপাকে বাংলাদেশ যুব ফুটবল দলের কোচ

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলের বৃটিশ কোচ জেরার্ড জোন্সের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি পোস্ট ও ভিডিও বার্তা ঘিরে দেশের ফুটবল অঙ্গনে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। বেতনের অর্থ সময়মতো হাতে না পাওয়া এবং নানা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির কারণে চরম আর্থিক সংকট ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছেন বলে দাবি করেছেন উয়েফা ‘এ’ লাইসেন্সধারী এই কোচ। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আওয়াল আশ্বাস দিয়েছেন যে দ্রুতই এর সমাধান হয়ে যাবে।

গত জুনে অনূর্ধ্ব-২০ দলের দায়িত্ব নেয়া এই কোচ সোমবার সকালে ফেসবুকে আবেগঘন পোস্টে লেখেন, ‘খুব মন খারাপ লাগছে। আমার পরিবার এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আমি চিন্তিত। বেতনের অপেক্ষায় আছি, আমার কাছে কোনো টাকা নেই এবং আমার স্ত্রী ও সন্তানদের খাওয়ার জন্য টাকা পাঠাতে পারছি না। আমি আমার জীবনের জন্য শঙ্কিত এবং খুব ভয়ে আছি।’

দুপুরের দিকে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি আরও ভেঙে পড়েন, লেখেন, ‘ভেতরে-ভেতরে একদম শেষ হয়ে গেছি। মনে হচ্ছে আমার স্ত্রী এবং সন্তানদের প্রচণ্ড হতাশ করেছি।’

পরবর্তী সময়ে আরেকটি পোস্টে জেরার্ড জানান যে তার অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়েছে। তবে ব্যাংকিং ও করসংক্রান্ত নতুন কিছু জটিলতার কারণে তা বিদেশে পাঠানো যাচ্ছে না।

এ ছাড়া বাংলাদেশে চলাকালীন তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি লেখেন, ‘মানুষ গাড়ির কাছে এসে, গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে, গাড়ি ঘিরে ধরে টাকা চাইছে। ব্যক্তিগতভাবেও বহুবার মানুষ আমার কাছে আর্থিক সাহায্য চেয়েছে। এখানে আমি নিজেকে খুব একা এবং বিপন্ন মনে করছি।’ ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করা নিয়েও গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে কোচের এমন অভিযোগের জবাবে বাফুফে জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী ১০ তারিখের মধ্যে তার অ্যাকাউন্টে বেতনের অর্থ পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। বাফুফে সাধারণ সম্পাদক গণমাধ্যমে বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী আমরা তার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি। এরপর কী হলো, সেটা বলতে পারবো না।’

জানা গেছে, নিজ দেশে অর্থ পাঠানোর আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ধাপগুলো সম্পন্ন করতে সোমবার দুপুরেই যশোর থেকে ঢাকায় আসেন এই কোচ। বর্তমানে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের প্রস্তুতি হিসেবে যশোরে দলটির আবাসিক ক্যাম্প চলছে।

জেরার্ডের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল গণমাধ্যমে বলেন, ‘এটি দুর্ভাগ্যজনক। তবে তার মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে আমাকে সম্মান করতে হবে। পুরো পরিস্থিতিকে তিনি ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন। যাই হোক, দ্রুতই এর সমাধান হয়ে যাবে।’

কোচের নিরাপত্তা নিয়ে প্রকাশ করা উদ্বেগ বাফুফে খতিয়ে দেখবে কি না, এমন প্রশ্নে তাবিথ জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই পোস্টে ফেডারেশন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাবে না। কোনো উদ্বেগ থাকলে জেরার্ড সরাসরি বাফুফেকে জানাতে পারেন।

কোচের নিরাপত্তা নিয়ে দেশে নির্দিষ্ট কোনো সহিংসতার খবর না মিললেও, বিদেশি একজন কোচের এমন অসহায়ত্ব ও ভয়ের প্রকাশ দেশের ক্রীড়া ব্যবস্থাপনার পেশাদারত্ব নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন