স্বপ্নের কথা জানালেন অ্যাডাম আব্বাস

স্বপ্নের কথা জানালেন অ্যাডাম আব্বাস

ফন্ট সাইজ:

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের পর এবার এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের প্রস্তুতিতে মনোযোগী হয়েছে বাংলাদেশ যুব দল। দলের শক্তি বাড়াতে ইংল্যান্ড থেকে ছুটে এসেছেন প্রবাসী ফরোয়ার্ড অ্যাডাম আব্বাস। যশোরের শামস-উল-হুদা একাডেমিতে বাংলাদেশ দলের ক্যাম্পে যোগ দিয়ে অনুশীলনও শুরু করেছেন তিনি। গতকাল গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই তরুণ জানান লাল-সবুজের জার্সিতে মাঠ মাতানোর স্বপ্নের কথা। ইংল্যান্ডে জন্ম নেয়া ১৯ বছর বয়সী অ্যাডাম আব্বাস ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বয়সভিত্তিক একাডেমিতে খেলেছেন। পরবর্তীতে তিনি বার্নলির অনূর্ধ্ব-১৮ দলে খেলেন এবং চলতি বছরের মার্চে যোগ দেন উইদেনশো ক্লাবে। নিজের শেকড়ের টানে ছুটে এসেছেন বাংলাদেশে।

ভক্তদের ভালোবাসায় মুগ্ধ এই উইঙ্গার বলেন, ‘আমি এই ভালোবাসার কদর করি। আমি জানি বাংলাদেশি ভক্তদের কাছ থেকে অনেক ভালোবাসা পাওয়া যায়, তারা সত্যিই দারুণ এক সমর্থক গোষ্ঠী। বাংলাদেশের হয়ে খেলা এবং বাংলাদেশের জন্য নির্বাচিত হওয়া আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের। অবশ্যই এটি আমার মায়ের দেশ, তাই পরিবারের সবাই খুব গর্বিত। আমি মাঠে নেমে ফুটবল খেলার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।’ নিজের আগ্রহ থেকে বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে খোঁজখবর নেন অ্যাডাম আব্বাস। তিনি বলেন, ‘আমি জানতে পারি যে বাংলাদেশের একটি দল আছে। আমি হামজা চৌধুরী এবং জাতীয় দলে খেলা আমার বয়সী আরও কয়েকজন খেলোয়াড় সম্পর্কে জানতাম। তারপর কোনো একটি পেজের মাধ্যমে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং সেখান থেকেই সব শুরু হয়।

তবে আমার মূল লক্ষ্য হলো শান্ত থেকে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেয়া এবং নিজের ফুটবলটা খেলে যাওয়া।’ অ্যাডামকে দলে ভেড়াতে গত কয়েক মাস ধরে কাজ করেছে বাফুফের টেকনিক্যাল বিভাগ। গত এপ্রিলেই তার খেলার ভিডিও বিশ্লেষণ করে তারা যোগাযোগ শুরু করে। ৮ই আগস্ট তিনি ঢাকায় পৌঁছান এবং এরপরই যোগ দেন যশোরের ক্যাম্পে। হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমের পথ ধরে বাংলাদেশ ফুটবলে যুক্ত হওয়া প্রবাসী ফুটবলারদের তালিকায় নাম লেখালেন তিনি। যশোরে প্রথম দিনের অনুশীলন দারুণ উপভোগ করেছেন এই প্রবাসী ফুটবলার। কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে দলের সবার মানসিকতায় মুগ্ধ তিনি। দলের পরিবেশ নিয়ে অ্যাডাম বলেন, ‘দলের সবাই কঠোর পরিশ্রম করছে। আমি এখানে কেবল দুই-একদিন হলো এসেছি, কিন্তু ইতিমধ্যেই বুঝতে পারছি দলের মানসিকতা কতোটিা ইতিবাচক। আজ (গতকাল) আমার প্রথম সেশন ছিল এবং এটি খুব ভালো কেটেছে। ট্রেনিংয়ের সব আয়োজন দারুণ ছিল।’ কোচ জেরার্ডের দর্শনের কথাও তুলে ধরেন তিনি, ‘জেরার্ড চমৎকার কিছু ড্রিল করিয়েছেন।

তার একটা কথা আছে, প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশি দৌড়াও, বেশি পরিশ্রম করো, ভালো খেলো, বেশি গোল করো এবং ভালো ডিফেন্স করো। সব পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করাই আমাদের লক্ষ্য।’ আগামী ৩১শে আগস্ট থেকে ৫ই সেপ্টেম্বর উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠিত হবে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ- স্বাগতিক উজবেকিস্তান, সিরিয়া ও ভারত। টুর্নামেন্ট ঘিরে নিজের লক্ষ্যের কথা জানিয়ে অ্যাডাম বলেন, ‘এএফসি টুর্নামেন্টে আমাদের সাধ্যমতো সেরাটা দেয়া, ভক্তদের মুখে হাসি ফোটানো, দেশের জন্য খেলে সবাইকে গর্বিত করা এবং অবশ্যই মূল পর্বে কোয়ালিফাই করা; এটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এখানে জাতীয় দল ও বয়সভিত্তিক দল মিলিয়ে অনেক ভালো তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে। আমরা যদি একতাবদ্ধ থাকি, কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাই, তবে ছোটখাটো যেকোনো ধাক্কা সামলে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পারবো।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন